রাজধানীর আদাবর থানায় দায়ের একটি অস্ত্র মামলায় আদালত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি এই ফয়সাল।
ঢাকার ১৮তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মোহসীন আজ বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন। আসামি ফয়সাল পলাতক আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ইসমাইল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত রোববার মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর আদালত রায় ঘোষণার জন্য আজ দিন নির্ধারণ করেন। বিচার প্রক্রিয়ায় ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর রাজধানীর আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে র্যাব অভিযান চালায়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ফয়সালকে আটক করা হয়। পরে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে চারটি গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। ফয়সাল এ অস্ত্রের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
এ ঘটনার পরদিন ৮ নভেম্বর আদাবর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়। তদন্ত শেষে আদাবর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হাসান গত বছরের ২৮ মার্চ ফয়সালকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফয়সাল ওই এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। তিনি মাদক কেনাবেচারও মূল হোতা। দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি, খুন, জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন ফয়সাল।
ইনকিলাব মঞ্চের শরিফ ওসমান হাদিকে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাস্তায় গুলি হত্যার ঘটনায় পুলিশি তদন্তে ফয়সালের নাম উঠে আসে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জানানো, ওসমান হাদিকে গুলি করার জন্য যে মোটরসাইকেলে করে আসা হয়েছিল, তাতে ফয়সাল ও আলমগীর নামের আরেকজন ছিলেন। পলাতক ফয়সাল ভারতে গ্রেপ্তার হয়ে দেশটির একটি কারাগারে বন্দি আছেন।






