আইপিএলে গতকাল রাতে গুজরাট টাইটানসের ২১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে দিল্লি ক্যাপিটালসের ব্যাটসম্যান ডেভিড মিলার শেষ ওভারের পঞ্চম বলে দৌড়ে রান নেননি। হাতে ৩ উইকেট রেখে শেষ ২ বলে ২ রান দরকার ছিল দিল্লির। প্রসিধ কৃষ্ণার করা সেই ওভারের পঞ্চম বলে দৌড়ে ১ রান নেওয়ার সুযোগ থাকলেও মিলার তা করেননি। অপর প্রান্তে কুলদীপ যাদবকে ফেরত পাঠান। শেষ বলে কৃষ্ণার খাটো লেংথের স্লোয়ার ব্যাটে লাগাতে না পেরে মরিয়া হয়ে প্রান্ত বদলাতে গিয়ে রানআউট হন মিলার।

শেষ ওভারের পঞ্চম বলে মিলার রান না নেওয়ার পর গুজরাট অধিনায়ক শুবমান গিল কী ভেবেছিলেন? ম্যাচ শেষে গিল বলেন, ‘(ভেবেছিলাম) জয়ের সুযোগ আছে আমাদের।’ শেষ বলটা কেমন হবে, সেটা পরিকল্পনা করে করা হয়েছে জানিয়েছেন গিল। তিনি বলেন, ‘ইয়র্কার নাকি স্লোয়ার—আমরা এ নিয়ে আলাপ করেছি। উইকেটের আচরণ দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নিই ভালো স্লোয়ার বলে বাউন্ডারি মারা কঠিন হবে।’

৩ ছক্কা ও ৩ চারে ২০ বলে ৪১ রান করে অপরাজিত ছিলেন মিলার। শেষ বলে বাউন্ডারি মারার লক্ষ্যে পুল করেন তিনি, কিন্তু ব্যাটে লাগেনি। ফলে বিফল হয় তাঁর দারুণ ইনিংস।

মিলার কেন তখন দৌড়ে ১ রান নেননি, সেটা ব্যাখ্যা করেছেন ভারতের কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, জয়সূচক রানটি সে নিজেই নিতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রথম বলে কুলদীপ যাদব যেভাবে ১ রান নিয়েছে, সেটা দেখে মনে হয়েছে, কুলদীপকেই হয়তো স্ট্রাইক দেওয়া উচিত ছিল তার।’

গাভাস্কার এরপর বলেন, ‘তার (কুলদীপকে) স্ট্রাইক দেওয়া উচিত ছিল। অবশ্য ম্যাচ শেষে এমন অনেক কথাই বলা যায়। তবে আসল কথা হলো, আগের ওভারগুলোতে এবং ওই ওভারেও সে (মিলার) যেভাবে খেলছিলেন, তাতে তার বিশ্বাস ছিল যে, সে নিজেই ম্যাচ জেতাতে পারবে। তাই আপনি তাকে দোষ দিতে পারেন না। নিজের সামর্থ্যের ওপর তার ভরসা ছিল, কিন্তু দিন শেষে সেটি সফল হয়নি। কারণ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার বলটি ছিল এককথায় দুর্দান্ত।’

ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার কেভিন পিটারসেনের মতামত একটু ভিন্ন। তাঁর মতে, মিলার হয়তো ভেবেছিলেন সিঙ্গেল নেওয়া বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই স্ট্রাইক নিজের কাছে রাখাই নিরাপদ মনে করেছিলেন। পিটারসেন বলেন, ‘আমার মনে হয় মিলার ভেবেছিল যে শেষ বল থেকে অন্তত ১ রান সে নিশ্চিতভাবেই নিতে পারবে। তা না হলে বল সীমানার বাইরে পাঠাবে। কারণ, বল উড়িয়ে মারার সামর্থ্য তার দুর্দান্ত।’

পিটারসেন আরও বলেন, ‘মিলার ভেবেছিল, শেষ বলে সে নিশ্চিতভাবেই অন্তত ১ রান নিতে পারবে। সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতি ছিল ১ রান, বল মিস হবে না—এটাই ছিল তার বিশ্বাস। আর সব ঠিক থাকলে ২, ৩, ৪ বা ছক্কাও হতে পারত।’

আইপিএলে এবার নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাঁচ বল হাতে থাকতেই হেরেছিল গুজরাট টাইটানস। দ্বিতীয় ম্যাচেও প্রায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জয়ের আশা জাগিয়ে রেখেছিল দলটি। আর তৃতীয় ম্যাচে হারের একদম দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল তারা। কিন্তু শেষ বলে তুলে নেওয়া জয়ে এবার আইপিএলে প্রথম জয়ের মুখও দেখল গুজরাট।