নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ১৫৭ মাস পূর্তিতে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচিতে নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেন, ১৩ বছরেও এ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্র আদালতে না পৌঁছানো বিচারহীনতার স্পষ্ট প্রমাণ। তিনি দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল করে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বুধবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে রফিউর রাব্বি বলেন, ‘এখন তো গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে। আমরা তাদের কাছে সুবিচার প্রত্যাশা করি। অতি দ্রুত অভিযোগপত্র দিন। সাগর-রুনি, তনু হত্যার বিচার করুন। আমরা চব্বিশের অভ্যুত্থানে নিহতসহ সব হত্যার বিচার চাই।’

শেখ হাসিনার আমলে হত্যা, গুম, খুন ও আয়নাঘরের মাধ্যমে দেশে দুর্বিষহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে উল্লেখ করে রফিউর রাব্বি বলেন, জেলায় জেলায় মাফিয়াতন্ত্র গড়ে তোলা হয়েছিল। বিচারব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছিল। এর পরিণতি শেখ হাসিনা ভোগ করছেন। আজ ক্ষমতায় যাঁরা এসেছেন, তাঁদের এটি মনে রাখতে হবে। তাঁরা যদি সেই ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখেন, তা তাঁদের জন্য বুমেরাং হয়ে ফিরে আসবে।

নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের মতো কেউ কেউ গডফাদার হয়ে উঠার লক্ষণ দেখছেন বলে অভিযোগ করে রফিউর রাব্বি বলেন, ‘পরিবহন, বাজার, ঘাট, ফুটপাত, সরকারি জায়গা—এমনকি শহীদ মিনার পর্যন্ত তাদের চাঁদা আদায়ের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। কোনো কোনো মন্ত্রী চাঁদাবাজদের তালিকা করার কথা বলছেন। এটি ভালো কথা; কিন্তু এই চাঁদাবাজদের তালিকা সব গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আছে। সরকারি দলের বাইরে কখনো কেউ চাঁদাবাজি করে না, করতে পারে না। এখনই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। এরা কখনো দলের ক্ষতি ছাড়া মঙ্গল বয়ে আনে না।’

ত্বকী হত্যার ১৩ বছর পূর্তিতে তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং বিচারের দাবি উত্থাপিত হয়। সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন খেলাঘরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি রথীন চক্রবর্তী, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্যসচিব হালিম আজাদ, খবরের পাতার সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা প্রদীপ ঘোষ, সিপিবির জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এস এম কাদির, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা নির্বাহী সমন্বয়ক অঞ্জন দাস, সামাজিক সংগঠন সমমনার উপদেষ্টা দুলাল সাহা, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি মাহামুদ হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান ও কবি বিলকিস ঝর্ণা।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খাঁ সড়কের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুদিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যা মামলাটির তদন্ত সংস্থা র‍্যাব ২০১৪ সালের ৫ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। শিগগিরই অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হবে। কিন্তু সেই অভিযোগপত্র আজও আদালতে জমা হয়নি। ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। ত্বকী হত্যা মামলার প্রতিবেদনসহ তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ২৬ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।