প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, দেশে জ্বালানিনিরাপত্তা নিয়ে কখনো কোনো সরকার চিন্তা করেনি। তাঁর মতে, বিগত সরকারগুলো বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে বয়ানের রাজনীতি করে এসেছে। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার বলেন, আগের সরকার বলেন—তারা আমাদেরকে দায়দেনা (পরিশোধ) না দিয়ে চলে গেছে। কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি। কিন্তু বক্তব্য দিয়েছে, ফেসবুক ভাসিয়ে দিয়েছে।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে জনগণ ৬০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাহলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মজুত কোথায়? এই প্রশ্নটা খুব জরুরি। বিএনপি সরকার আসার আগে কেউ এই প্রশ্নটি করেনি।
আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর বিস অডিটোরিয়ামে ‘মিটিগেটিং ইকনোমিক ফলআউট অব মিডল ইস্ট ওয়ার ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজক বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস)।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিএনপি সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে কোনো জ্বালানিনিরাপত্তা পায়নি। বরং যা ছিল, তার চেয়ে কমেছে। ইস্টার্ন রিফাইনারি একসময় ৩০ দিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারত। সেটা কমে এখন ১৭ দিনে নেমেছে।
বক্তব্যে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং তা থেকে সৃষ্ট সংকট নিয়ে কথা বলেন। বিএনপি সরকার সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, উত্তরণের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের একটা বাধা আছে। যেটা অতীতের সরকারের কখনো ছিল না। সেটি হলো জবাবদিহি। অতীতের সরকার যখন ইচ্ছা দাম বাড়াতে পারত, ভর্তুকি দিতে পারত। কিন্তু গণতান্ত্রিক সরকার সেই কাজটা করতে পারবে না।
বিএনপি সরকার সংকটকে সুযোগে পরিণত করতে পারে বলে সেমিনারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। উদাহরণ টেনে ৭০–এর দশকের তেলসংকটকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মানবসম্পদ রপ্তানি করে সমাধান করেছিলেন বলে তুলে ধরেন তিনি।
এবারের সংকট মোকাবিলায় বিএনপি সরকার জরুরি উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, মধ্যমেয়াদি কৌশল হিসেবে জ্বালানির উৎসের বহুমুখীকরণ, অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং দামের সমন্বয় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারকে মূল্যস্ফীতির বিষয়টি চিন্তা করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। দেশ ৯ শতাংশ মূল্যস্ফীতির মধ্যে আছে। যখনই দাম বাড়বে, তখন মূল্যস্ফীতি কী হবে? যেখানে বেকারত্ব অনেক বেশি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দাম সমন্বয় করার সময় মূল্যস্ফীতি বিষয়টি সরকারকে চিন্তা করতে হবে।






