রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা ও দলটির কর্মী মকবুলকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে আদালত আরও চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন।

আজ বুধবার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিএমপির স্পেশাল অপারেশন টিমের উপপরিদর্শক মো. তোফাজ্জেল হোসেন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করে আদালতে আবেদন করেন। শুনানির পর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আজ বেলা আড়াইটার দিকে মাথায় হেলমেট ও হাতে হাতকড়া পরিয়ে আফজাল নাছেরকে এজলাসে হাজির করা হয়। এরপর বেলা ২টা ৪৮ মিনিটের দিকে রিমান্ড আবেদনের শুনানি শুরু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেন। তিনি বলেন, “আসামি ফ্যাসিস্টের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। মামলার বিস্তারিত তথ্য উদ্‌ঘাটনে রিমান্ড প্রয়োজন।”

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. হেলাল উদ্দীন রিমান্ড বাতিলের দাবি জানান। তিনি বলেন, “আফজাল নাছের ২০০৮ সালে চাকরি থেকে বরখাস্ত হন। তিনি ফ্যাসিস্টের সুবিধাভোগী নন। এ মামলায় তাঁর নাম ছাড়া আর কিছু নেই। জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।”

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর বেলা ২টা ৫২ মিনিটের দিকে আফজাল নাছেরকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে আফজাল নাছের জুলাই আন্দোলনের সময় মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় ছয় দিনের রিমান্ডে ছিলেন। গত রোববার সেই রিমান্ড শেষে তাঁকে আদালতে হাজির করে মকবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো ও রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। ওই দিন আদালত তাঁকে এ মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা ও মকবুল নামে দলের এক কর্মীকে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। বাদী মাহফুজার রহমান ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পল্টন থানায় মামলাটি করেন।