জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় এবং নির্বাচক আতহার আলী ও মিনহাজুল আবেদীন এবার বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য হয়ে বোর্ড চালানোর দায়িত্ব পেয়েছেন। একজন এখন ধারাভাষ্যকার, অন্যজন বিসিবিতেই চাকরি করেন। তবে তাঁদের সবচেয়ে বড় পরিচয় জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার এবং একসময় নির্বাচক হিসেবে কাজ করা।
টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার আগে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন মিনহাজুল আবেদীন। অবসরের পর ২০০৫ সালে কোচ হিসেবে বিসিবিতে যোগ দেন তিনি। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দলের ব্যাটিং কোচ থেকে বিসিবির বিভিন্ন প্রোগ্রামে কোচিং দিয়েছেন। পরে নির্বাচক প্যানেলে যোগ দেন। সদস্য ও প্রধান নির্বাচক হিসেবে এক দশকের বেশি সময় কাজ করেন। ২০২৪ সালে তাঁকে সরিয়ে গাজী আশরাফ হোসেনকে প্রধান নির্বাচক করা হয়। এরপর থেকে মিনহাজুল বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির প্রোগ্রাম কো–অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
প্রায় দুই দশক বিসিবির সঙ্গে জড়িত থাকার পর বোর্ড চালানোর দায়িত্ব পেয়ে মিনহাজুল বলেন, ‘২০০৫ সাল থেকে বিভিন্ন ভূমিকায় কাজ করেছি। সবকিছু ভেতর থেকে দেখেছি। আশা করি, এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। আর আমাদের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ সুষ্ঠভাবে একটা নির্বাচন আয়োজন করা।’
বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটি ৩ মাসের জন্য দায়িত্ব পেয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে তাদের। সেই নির্বাচনে অংশ নিতে চান মিনহাজুল আবেদীন। পরিচালক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিন কাজে লাগাতে চান তিনি। এজন্য বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘দীর্ঘদিন কাজ করার কারণে সবার সঙ্গেই আমার একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আছে। সেটা কাজে লাগিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এমন কিছু কাজ করতে চাই, যেন ছাপ থেকে যায়।’
অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবালও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক। তাঁর কমিটিতে ক্রিকেটার হিসেবে শুধু আতহার ও মিনহাজুল আবেদীন আছেন। আতহার এখন ধারাভাষ্যকার হিসেবে বেশি পরিচিত। বাংলাদেশের যেকোনো খেলায় তাঁর কণ্ঠস্বর শোনা যায়। অ্যাডহক কমিটি গঠনের দিনও পাকিস্তানে পিএসএল ধারাভাষ্য দিতে ছিলেন তিনি। সেখান থেকে অনলাইনে গতকাল বোর্ড সভায় যোগ দেন।
ধারাভাষ্যকার হলেও জাতীয় দলের হয়ে ১৯ ওয়ানডেতে তিন ফিফটি করা আতহার একসময় বিসিবিতে নির্বাচক ছিলেন। ২০০৪ সালে ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে নির্বাচক প্যানেলের সদস্য হন। পরে ২০১৬–১৭ সালে মেয়েদের নির্বাচক হন। সেই দায়িত্ব ছাড়ার পর ধারাভাষ্যে মনোনিবেশ করেন। এবার মিনহাজুলের সঙ্গে আতহারও বিসিবিতে নতুন ভূমিকায়। বোর্ড চালানোর এই চ্যালেঞ্জ তাঁরা কতটা নিতে পারবেন, তা দেখার বিষয়।






