ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় প্রতিপক্ষের মাঠে প্রথম লেগ জয়ের পর বায়ার্ন মিউনিখ ৩১ বারের মধ্যে ৩০ বার পরবর্তী ধাপে উঠেছে। শুধু একবার ব্যর্থ হয়েছে সেই দল—২০১০-১১ চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ ষোলোতে ইন্টার মিলানের কাছে ‘অ্যাওয়ে গোল’ নিয়মে হেরে।

অন্যদিকে, ঘরের মাঠে প্রথম লেগে হেরে রিয়াল মাদ্রিদ ৭ বারের মধ্যে মাত্র একবারই পরের রাউন্ডে উঠতে পেরেছে। ১৯৭০-৭১ ইউরোপীয় কাপ উইনার্স কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওয়াকার ইনসব্রুকের বিপক্ষে ১-০ গোলের হার সত্ত্বেও ফিরতি লেগ জয় করে এগিয়ে গিয়েছিল রিয়াল।

গতকাল রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে রিয়ালের মাঠে ২-১ গোল করে জয়লাভ করেছে বায়ার্ন মিউনিখ। এর ফলে ১৫ এপ্রিল বায়ার্নের মাঠে ফিরতি লেগে কে সেমিফাইনালে উঠবে, সেই আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।

ইতিহাস বায়ার্নের পক্ষে থাকলেও কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি জানেন, চ্যাম্পিয়নস লিগে যেকোনো পরিস্থিতি থেকে কামব্যাক করতে পারে রিয়াল। তাই তিনি বলছেন, খেলা এখনো শেষ হয়নি, এখনো অনেক কিছু বাকি।

রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়াও একই বিশ্বাসী। হারের পর তিনি বলেন, “যাঁরা আমাদের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না, তাঁরা মাদ্রিদেই থেকে যেতে পারেন। কিন্তু আমরা জয়ের জন্য নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিতেই মিউনিখে যাচ্ছি।”

কোম্পানিও জানেন রিয়াল মরণকামড় দেবে ফিরতি লেগে। তবু তাঁর নিজেদের ওপর আস্থা অটুট। জয়ের পর বলেছেন, “আমরা রিয়াল মাদ্রিদের সামর্থ্যকে সম্মান করি; কারণ, তারা অত্যন্ত ভয়ংকর দল। তবে আমরাও কম নই। আমাদের দল এখন দারুণ ছন্দে, তাই জয়ের স্বপ্ন দেখার পূর্ণ অধিকার আছে...তবে আমি জানি লড়াই এখনো শেষ হয়নি।”

বায়ার্নের গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যারও মনে করেন, ১ গোলের সুবিধা নিয়ে এগিয়ে থাকা স্বস্তিকর নয়। গতকাল রাতে বলেন, “সত্যি বলতে, শেষ পর্যন্ত ব্যবধানটা ২-০ রাখতে না পারাটা লজ্জার। রিয়াল মাদ্রিদ কত ভয়ংকর তা আপনারা জানেন, আজ (গতকাল রাতে) আমরা আবারও তা দেখলাম। তারা প্রচুর সুযোগ তৈরি করেছে এবং আরও গোল পেতে পারত।”

প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরতে খুশি হলেও নয়্যার মনে করিয়ে দেন, “প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে এ জয় নিয়ে ফিরতে পেরে আমরা খুশি। তবে মিউনিখে ফিরতি লেগটা আমাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হবে।”

রিয়ালের ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগারও বিশ্বাসী, ফিরতি লেগ জয় করে সেমিফাইনালে ওঠা সম্ভব। প্রথম লেগে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলেই রিয়ালের একমাত্র গোল। মুভিস্টারকে তিনি বলেন, “আমার মতে, হজম করা ২টি গোল ছিল প্রতিপক্ষের জন্য উপহার। দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের আরও বেশি কিছু করার দরকার ছিল। আমার মনে হয়, আমরা এখনো লড়াইয়ে টিকে আছি। এমবাপ্পের ওই গোলের পর সবকিছুই এখন উন্মুক্ত। আমাদের গোল করার অনেক সুযোগ ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফুটবল এমনই।”