জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যাসহ পাঁচটি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন স্থগিতের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের পৃথক পাঁচ আবেদন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে ২৬ এপ্রিল শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হক মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

এই পাঁচ মামলার মধ্যে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা–সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে করা চারটি মামলায় হাইকোর্ট গত ৮ মার্চ খায়রুল হককে জামিন দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা অপর মামলায় হাইকোর্ট থেকে তিনি ১১ মার্চ জামিন পান।

হাইকোর্টের এই জামিনগুলো স্থগিত করতে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে, যা মঙ্গলবার চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস। খায়রুল হকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হোসনে আরা বেগম ও মোনায়েম নবী শাহীন।

খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন।

বিচারপতি খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার–সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন একটি মামলা করেন। একই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় গত বছরের ২৫ আগস্ট নুরুল ইসলাম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি আরেকটি মামলা করেন। এছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট গ্রহণের অভিযোগে গত বছরের আগস্টে দুদক খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করে।

খায়রুল হকের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ওই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় গত ৩০ মার্চ সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাই পাঁচ মামলায় জামিনের পরও তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাননি।