বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) তদন্ত প্রতিবেদনকে ‘ত্রুটিপূর্ণ ও আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তিনি তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটিকে ‘অসাংবিধানিক ও অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। আজ এনএসসি বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পরপরই একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আমিনুল এসব কথা জানান।

গত ৫ এপ্রিল এনএসসির দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন আইনগতভাবে কোনো ভিত্তি রাখে না বলে দাবি করেন আমিনুল। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বৈধ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে।

ওই নির্বাচন পরিচালনার জন্য ২০২৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান সিবগাত উল্লাহ এবং এনএসসির নির্বাহী পরিচালক ছিলেন নির্বাচন কমিশনার।

১৫টি ক্লাব ও তামিম ইকবালের কাউন্সিলরশিপ নিয়ে যে আপত্তি উঠেছিল, তা ২০২৫ সালের ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর আধা-বিচারিক শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছিল বলে আমিনুল জানান।

এনএসসির এই তদন্ত তার এখতিয়ারবহির্ভূত বলে মন্তব্য করে আমিনুল বলেন, আইসিসির সংবিধান অনুযায়ী সদস্য বোর্ডগুলোকে সরকারি হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রেখে পরিচালিত হতে হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্যোগে হওয়া এই তদন্তকে তিনি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেন।

নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটি গঠনকে ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ বলে উল্লেখ করেন বিসিবির সভাপতি। এই কমিটির কোনো বৈধতা নেই বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা এই কমিটির কর্তৃত্ব স্বীকার করি না।’

ভেঙে দেওয়া হলো বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ, অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম।

বিবৃতির শেষে আমিনুল সতর্ক করেন, সরকারের এই হস্তক্ষেপ বাংলাদেশ ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে। বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তরুণ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়ে আইসিসিকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান আমিনুল।

নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে হাইকোর্টের রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনিই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি বলে দাবি করেন আমিনুল ইসলাম।