মাঠে ডেভিড ওয়ার্নারের ঝোড়ো মেজাজ আর আগ্রাসী স্বভাব সবাই জানে। প্রায়ই প্রতিপক্ষের স্লেজিংয়ের জবাবে খবরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি, আবার ব্যাটিংয়ে রান তুলেও।
কিন্তু এবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ওয়ার্নার খবরে এলেন ভিন্ন কারণে। সিডনির রাস্তায় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হন ৩৯ বছর বয়সী এই সাবেক অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার।
ঘটনাটি ঘটে গত রোববার। সিডনির পূর্বাঞ্চলীয় মারুব্রা এলাকায় পুলিশের নিয়মিত তল্লাশি চলছিল। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের তথ্যমতে, একটি ভ্যানকে পুলিশি তল্লাশির ঠিক আগে থামতে দেখা যায়। সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে ট্রাফিক ও হাইওয়ে টহল পুলিশের কর্মকর্তারা চালকের কাছে যান। চালকের আসনে ছিলেন ওয়ার্নার। সেখানেই প্রাথমিক পরীক্ষায় তাঁর শরীরে অ্যালকোহলের উপস্থিতি ধরা পড়ে।
তারপর ওয়ার্নারকে গ্রেপ্তার করে মারুব্রা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় পরীক্ষায় তাঁর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা পাওয়া যায় ০.১০৪। নিউ সাউথ ওয়েলসে গাড়ি চালানোর জন্য নির্ধারিত বৈধ মাত্রা ০.০৮, যা ওয়ার্নারের ক্ষেত্রে ছিল দ্বিগুণেরও বেশি।
আইন অনুসারে, রক্তে ০.০৮ থেকে ০.১৪৯ মাত্রার অ্যালকোহল থাকলে তা ‘মিড-রেঞ্জ’ অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এই গুরুতর অপরাধের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দায়ের করা হয়েছে। আগামী ৭ মে তাঁকে আদালতে হাজির হতে হবে।
বর্তমানে ওয়ার্নার পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) করাচি কিংসের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন। ২ এপ্রিল রাওয়ালপিন্ডিজের বিপক্ষে এক ম্যাচে ঝোড়ো হাফসেঞ্চুরি করে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি। টুর্নামেন্টে সাত দিনের বিরতির কারণে ব্যক্তিগত কাজে সিডনির নিজ বাড়িতে ফিরেছিলেন ওয়ার্নার। সেই ছুটির মধ্যেই ঘটেছে এই ঘটনা।
তবে মাঠের বাইরে এমন বিতর্ক সত্ত্বেও করাচি কিংসের সমর্থকরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারেন। ৯ এপ্রিল করাচির ঘরের মাঠে দলের পরবর্তী ম্যাচ। এই গ্রেপ্তার বা আইনি জটিলতা তাঁর পাকিস্তান ভ্রমণে আপাতত কোনো বাধা সৃষ্টি করছে না। নির্ধারিত সময়েই তিনি পিএসএলে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।






