শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিত হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগামী বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। আসনটিতে তিনজন প্রার্থী থাকলেও ভোটাররা মনে করছেন, মূল লড়াই বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক (রুবেল) ও জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে এই আসনে নির্বাচন স্থগিত হয়েছিল। তাঁর ছোট ভাই মাসুদুর রহমানকে প্রার্থী করেছে জামায়াত। এছাড়া নির্বাচনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান কাঁচি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।

বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী উপজেলায় গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভা করে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত ভোটারদের সমর্থন আদায় করতে সক্রিয় ছিলেন। গতকাল সোমবার বিকেলে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক ঝিনাইগাতী স্টেডিয়ামে এবং সন্ধ্যায় শ্রীবরদীর ভায়াডাঙ্গা টেঙ্গপাড়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে শেষ জনসভা করেন। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমান বিকেলে শ্রীবরদী শহরে মিছিল করেন এবং সন্ধ্যায় ঝিনাইগাতীতে গণসংযোগ করেন।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, পাহাড়ি অঞ্চলে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসন, সোমেশ্বরী ও মহারশী নদীর ওপর সেতু ও বাঁধ নির্মাণ, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে কার্যকর উদ্যোগ—এসব বিষয় ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে।

শ্রীবরদীর লঙ্গরপাড়া বাজারের মুদিদোকানি আবদুর রফিক বলেন, ‘মূলত এই আসনে ধানের শীষের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লার লড়াই হবে। তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত মাহমুদুল ভাই অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ; অপরদিকে দাঁড়িপাল্লার মাসুদুর ভাই নতুন। দুই উপজেলাই উন্নয়নবঞ্চিত, তাই উন্নয়নের স্বার্থে ভোটাররা যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেবেন।’

ঝিনাইগাতীর গন্দিগাঁও গ্রামের আল্পনা মারাক বলেন, ‘বন্য হাতির উপদ্রবে আমরা আতঙ্কে থাকি। এই সমস্যা সমাধানে যে পাশে থাকবে, তাকেই আমরা ভোট দিব।’

নির্বাচনে জয়লাভের ব্যাপারে আশাবাদী বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক। তিনি বলেন, ‘এই আসনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও হাতি–মানুষ দ্বন্দ্বসহ নানা সমস্যা রয়েছে। বিএনপি সরকারে রয়েছে, আমি নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করব। আশা করছি বিপুল ভোটের ব্যবধানে ভোটাররা ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করবে।’

জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমানও। তিনি বলেন, ‘বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। ভাইয়ের প্রতিশ্রুতির সেই ধারা অব্যাহত রাখতে ভোটারদের কাছে গিয়েছি। ভোটাররা পরিবর্তন চান। ভোটে তাঁরা সেই প্রত্যাশা পূরণ করবেন। এলাকার উন্নয়নে ভোটাররা আমাকে সে সুযোগ করে দেবেন। সুষ্ঠু ভোট হলে আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’

আর ভোটারদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছেন উল্লেখ করে কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়। আমি সেই প্রত্যাশা নিয়েই ভোটারদের কাছে গিয়েছি।’

শেরপুর জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে আমরা প্রস্তুত।’

শ্রীবরদী এবং ঝিনাইগাতী উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৬৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ৩০৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭ জন। দুই উপজেলায় ১২৮টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হবে।

নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে থাকবে ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র‍্যাবের ১০টি দল ও ৪টি রিজার্ভ দল, পুলিশের ২৬টি মোবাইল টিম, ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচন কমিশনের ১৮ জন পর্যবেক্ষক, ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটির ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা। প্রতিটি কেন্দ্রে ৬ জন পুলিশ ও ১২ জন আনসার দায়িত্ব পালন করবেন।