মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে দেশে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম আবার বেড়েছে। এবার প্রতি লিটারে ২৪ টাকা ৭৯ পয়সা দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে দুইবার দাম বাড়ানো হয়েছিল।

আজ মঙ্গলবার একটি বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জেট ফুয়েলের নতুন দর ঘোষণা করেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য লিটারপ্রতি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২২৭ টাকা ৮ পয়সা। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার দাম ১ দশমিক ৩২১৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৪৮০৬ ডলার করা হয়েছে। নতুন দর আজ দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।

গত বছরের মে মাস থেকে বিইআরসি প্রতি মাসে একবার জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করছে। গত মাসের শুরুতে লিটারপ্রতি ১৭ টাকা বাড়লেও দ্বিতীয় দফায় আরও ৯০ টাকা বৃদ্ধি পায়। ফলে প্রতি লিটার দাম ১০৭ টাকা বেড়ে হয় ২০২ টাকা ২৯ পয়সা। যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে এ দাম ছিল ৯৫ টাকা ১২ পয়সা।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি মূল্যের ব্যাপক ঊর্ধ্বগতিই দর সমন্বয়ের কারণ বলে জানিয়েছে বিইআরসি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এরপর ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে হামলা শুরু করলে যুদ্ধের আঁচ পড়ে তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলজুড়ে। দুই পক্ষের হামলায় লক্ষ্যবস্তু হয় জ্বালানি স্থাপনাগুলো। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

আগে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করে। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল, জেট এ-১-এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনের পর গত বছরের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি গ্রহণ করে বিইআরসি। এরপর থেকে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় চলছে।