রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক শাহরিয়ার সোহাগ শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় নিজের সাক্ষ্য গ্রহণ না করার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি আশঙ্কা করেন, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য উপেক্ষা করলে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় ‘আবু সাঈদ কর্নেল’-এ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সোহাগ এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে শাহরিয়ার সোহাগ জানান, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে ১৬ জুলাই হত্যা করা হয়। পরে তাঁর বড় ভাই রমজান আলী বাদী হয়ে রংপুর আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি নিজে ওই মামলার একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী। ৯ এপ্রিল শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার কথা আছে।

সোহাগ বলেন, ‘আন্দোলনের শুরু থেকে শহীদ হওয়ার মুহূর্ত পর্যন্ত আমি আবু সাঈদের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পাশে ছিলাম। একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে শুরু থেকেই তদন্তে সহযোগিতা করেছি। কিন্তু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আমার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি।’

তিনি জানান, প্রথমে মামলার তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলের শুরুতে মামলাটি হস্তান্তর করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। একই বছরের ২৭ আগস্ট তাঁকে ট্রাইব্যুনাল ২-এ সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়।

সেখানে গিয়ে সাক্ষীদের রেকর্ড বইয়ে নিজের নামে একটি সাক্ষ্যের খসড়া দেখতে পান বলে শাহরিয়ার সোহাগ দাবি করেন। ওই খসড়ায় তাঁর প্রকৃত বক্তব্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্য ছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে তিনি ওই খসড়ার ভিত্তিতে সাক্ষ্য দিতে আপত্তি জানান। পরে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়।

সোহাগ বলেন, ‘আমাকে পরে আবার ডাকা হবে বলা হলেও এখন পর্যন্ত আর ডাকা হয়নি। এতে আমি আশঙ্কা করছি, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যের অনুপস্থিতিতে বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে ডাকলে এখনো সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত আছেন। একই সঙ্গে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য বিচার নিশ্চিত করতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।