রাজধানীর মালিবাগ মোড়ে রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনের সামনে বেলা ১১টায় জ্বালানি তেলের জন্য গাড়ি ও মোটরসাইকেলের লম্বা সারি। সূর্যের তাপ প্রখর হলেও স্কুটি নিয়ে সারিতে দাঁড়ালেন কাকরাইলের এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মাহমুদা বেগম।

মঙ্গলবার মুক্তকণ্ঠের প্রতিবেদকের সঙ্গে সারিতে দাঁড়িয়ে মাহমুদা বলেন, তাঁর সামনে তখন শতাধিক মোটরসাইকেল। এখানে আসার আগে রমনা ফিলিং স্টেশনে গিয়েছিলেন, সেখানে আরও লম্বা সারি দেখে এসে দাঁড়িয়েছেন।

মাহমুদা বলেন, ‘নারীদের আলাদা লাইন হলে ভালোই হতো। কারণ, আমাদের অনেক কাজ থাকে। সকালে বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে আসতে হয়। অফিস আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি। বিকেলে অফিস শেষের পর এলে অকটেন পাব না। বলবে, শেষ হয়ে গেছে।’

মাহমুদার দুই সন্তান আদিয়াত ও মাহেদ। প্রতিদিন সকালে তাদের স্কুটিতে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে অফিস যান তিনি। মাহমুদা বলেন, ‘সকালে যদি বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে আসতে না হতো, শুধু আমার অফিস থাকত, তাহলে হেঁটে কিংবা রিকশায় যেতাম। এখন তো সেটা করা সম্ভব নয়। সময় মেনে সবকিছু সামলাতে আমাকে স্কুটি ব্যবহার করতেই হয়।’

কর্মজীবী এই নারী বলেন, তেলের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, তারপরও চাহিদামতো পাওয়া যায় না। মাত্র ২০০ টাকার তেল দেয়, তাই কয়েক দিন পরই আবার লাইনে দাঁড়াতে হয়। সারিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

বেলা সাড়ে ১১টায় আরামবাগের মেসার্স এইচ কে ফিলিং স্টেশনের সামনেও লম্বা সারি। সেখানে দুই শতাধিক মোটরসাইকেল ও প্রায় দেড়শত গাড়ি অপেক্ষায়। মোটরসাইকেল নিয়ে সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন জাকিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সকাল সাতটার দিকে এসেছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে জাকিরুল বলেন, ‘চার ঘণ্টার বেশি পেরিয়ে গেলেও পাম্পে তেল আসেনি। কী করবে, তেল না নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় আছে? তেল নিতেই হবে। তাই কষ্ট হলেও অপেক্ষা করছি।’

দুপুর ১২টায় মতিঝিলের করিম অ্যান্ড সন্স পাম্পেও একই দৃশ্য। মোটরসাইকেলের সারি মতিঝিল থেকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবন ছাড়িয়ে গেছে। গাড়ির সারি দৈনিক বাংলা মোড় পেরিয়েছে।

দৈনিক বাংলা মোড়ের বিনিময় ফিলিং স্টেশনে ‘অকটেন নেই’ লেখা বোর্ড ঝুলছে। মৎস্য ভবন মোড়ে রমনা ফিলিং স্টেশনে দুপুর সাড়ে ১২টার পর মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ সারি। ব্যক্তিগত গাড়ির সারি মৎস্য ভবন মোড় থেকে সেগুনবাগিচা–প্রেসক্লাব হয়ে আবার মৎস্য ভবনের কাছে পৌঁছেছে।

বেলা ১টা ২০ মিনিটে পরীবাগের মেঘনা সার্ভিসিং সেন্টার অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের সামনেও গাড়ি-মোটরসাইকেলের লম্বা সারি। প্রাইভেট কারচালক লোকমান ফকির মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘সকাল পৌনে ছয়টার দিকে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এত সময় পরও তেল পাইনি।’ তাঁর সামনে তখন পাঁচটি গাড়ি।