ফুটবল জগতে প্রতিনিয়ত আধুনিকীকরণের হাওয়া বইছে। প্রায় প্রতি মৌসুমেই খেলায় নতুন নিয়ম যুক্ত হচ্ছে, যা মাঠে-মাঠের বাইরে গুণগত পরিবর্তন এনেছে। এর মধ্যে খেলোয়াড়দের সুরক্ষা বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমান ফুটবলে তারকা খেলোয়াড়দের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং এর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এর ফলে তারকা খেলোয়াড়দের চোট খাওয়ার ঝুঁকি কমেছে এবং তাঁদের কার্যকারিতা অতীতের তুলনায় বেড়েছে। অতীত ও বর্তমানের এই তুলনায় সাবেক ইতালিয়ান মিডফিল্ডার দিনো বাজ্জো ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসির মধ্যে তুলনা এনেছেন।

দিনো বাজ্জো ছিলেন ১৯৯৪ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়া ইতালি দলের সদস্য। তাঁর দীর্ঘ ক্লাব ক্যারিয়ারে জুভেন্টাস, পার্মা এবং লাৎসিওর মতো ক্লাবে খেলেছেন। ১৯৯২–৯৩ মৌসুমে জুভেন্টাসের হয়ে উয়েফা কাপ জিতেছেন। ইতালিয়ান লিগে খেলার সময় ম্যারাডোনাকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি।

বাজ্জোর মতে, নিজের যুগে ম্যারাডোনাকে ভয়ংকর ফাউলের শিকার হতে হয়েছিল। আজকের ফুটবলে খেললে তাঁকে এমন ফাউল সহ্য করতে হতো না। ফলে এক মৌসুমে হাজার গোলও করতে পারতেন ম্যারাডোনা। এই কারণেই মেসিকে ছাড়িয়ে সর্বকালের সেরা হিসেবে ম্যারাডোনাকে বেছে নিয়েছেন দিনো বাজ্জো।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাজ্জো বলেন, “আমাদের সময়ে খেলোয়াড়দের এখনকার মতো সুরক্ষা দেওয়া হতো না। তখন অনেক ডিফেন্ডার ইচ্ছা করেই স্টাডস (বুটের নিচের কাঁটা, যা মাঠে খেলোয়াড়দের গ্রিপ বা নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে সাহায্য করে) তুলে পায়ের পেছনে আঘাত করত। কারণ, তারা তা বিনা বাধায় করতে পারত। সময়টা ছিল খুবই কঠিন। বলে লাগল নাকি গোড়ালি, সেটা নিয়ে কারও মাথাব্যথা ছিল না। এখনকার ফুটবল অনেক সহজ হয়ে গেছে।”

তারপর জানতে চাওয়া হলে বাজ্জো বলেন, তিনি চিরো ফেরেরা, ফার্নান্দো কোটো, জিউসেপ্পে বেরগোমি, রিকার্ডো ফেরি এবং পিয়েত্রো ভিয়েরখোভোদের মতো আগ্রাসী ডিফেন্ডারদের কথা বলছেন কি না? জবাবে বাজ্জো বলেন, “হ্যাঁ, এরা তো ছিল। তবে আরও অনেকের নাম বলা যায়, যেমন মিহাইলোভিচ। তখনকার ফুটবলে এ বিষয়গুলোয় অনেক বেশি ছাড় দেওয়া হতো। আর এই খেলোয়াড়েরা প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের ছাপ রেখে যেত। আর এখন তো প্রায় ছোঁয়ার আগেই ফাউল ধরা হয়।”

এরপর ম্যারাডোনার উদাহরণ দিয়ে বাজ্জো বলেন, “আজকের সময়ে ডিয়েগো ম্যারাডোনা খেললে মৌসুমে হাজার গোল করত। নাপোলিতে থাকার সময় তাকে কতটা বাজেভাবে ফাউল করা হতো, তা কল্পনাও করতে পারবে না। আর তখনকার সময়ে মেসি খেললে, সে হয়তো সমান উজ্জ্বলই থাকত, কিন্তু তাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হতো। এ কারণেই আমি বলি, ডিয়েগোই সেরা। বিশ্ব ফুটবলের ঈশ্বর।”