২০১৪ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে কেভিন পিটারসেন হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। তখন ইংল্যান্ডের সতীর্থদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খারাপ ছিল এবং ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সঙ্গেও ঝামেলা চলছিল। সম্প্রতি এই সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক নিজের ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছেন।

পিটারসেনের জানানো মতে, আইপিএলকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণেই তিনি ইসিবির বিরাগভাজন হন এবং এই দ্বন্দ্বের জেরে জাতীয় দল থেকে জায়গা হারান। ইউটিউবার রণবীর আল্লাহবাদিয়ার চ্যানেলে আলাপচারিতায় তিনি এই দাবি করেন। সেখানে ২০০০-এর দশকের শেষের দিকের সেই ঘটনাগুলো স্মরণ করেন। তখন কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের আইপিএলে খেলতে দেওয়ার ব্যাপারে ইসিবি রাজি ছিল না। পিটারসেন বলেন, আইপিএলে খেলার বিষয়ে তাঁর অটল অবস্থানই বোর্ডের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি দ্বন্দ্বের সূচনা করে, যা তাঁর ইংল্যান্ড দলের ক্যারিয়ারের শেষ নির্ধারণ করে।

বর্তমানে ইংল্যান্ডের অনেক ক্রিকেটার আইপিএলে খেলছেন। পিটারসেন এতে নিজের অবদানের কথা তুলে ধরেন এবং ২০০৯ সালে ইসিবির সঙ্গে বিরোধের স্মৃতি জানান, ‘আমি বড় ত্যাগ স্বীকার করেছি। নিজের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে। আর এ কারণেই সেই প্রশাসনের সবাই আমার বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিল।’

তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার অকালে শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যখন ইংল্যান্ডের হয়ে আমার পথচলা শেষ হয়, তখন আমার বয়স মাত্র ৩৩, খেলেছি ১০৪টি টেস্ট। অথচ আমার ১৫০-১৬০টি টেস্ট খেলা উচিত ছিল এবং রান হওয়া উচিত ছিল ১২–১৩ হাজার। আমার এটা প্রাপ্য ছিল।’

২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় পিটারসেনের। ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্টে ৪৭.২৮ গড়ে ২৩ সেঞ্চুরিসহ মোট ৮১৮১ রান করেন। ১৩৬ ওয়ানডেতে ৪০.৭৩ গড়ে ৯ সেঞ্চুরিসহ ৪৪৪০ রান এবং ৩৭ টি-টুয়েন্টিতে ১৪১.৫১ স্ট্রাইক রেটে ১১৭৬ রান।

পিটারসেন মনে করেন, আইপিএল খেলার পক্ষে তাঁর অটল অবস্থানের কারণেই আজ ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ইচ্ছামতো খেলতে পারছেন। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে জস বাটলারের সাক্ষাৎকার নিই। সে–ও আমাকে ধন্যবাদ দিয়েছে। কারণ, আমি যে ত্যাগ স্বীকার করেছি, তারা সেসবের ফল ভোগ করছে।’

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ২০০৯ সালে আইপিএলে অভিষেক হয় পিটারসেনের। মোট পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে পাঁচ মৌসুম খেলেছেন। ৩৬ ইনিংসে ৩৭.০৭ গড়ে ১ সেঞ্চুরি, ৪ ফিফটিসহ মোট ১০০১ রান করেন। স্ট্রাইক রেট ১৩৪.৭২।