চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আমন্ত্রণে বিএনপির একটি উচ্চপর্যায়ের ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদল চীন সফর করতে যাচ্ছে। এই দলে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতৃত্ব দেবেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সিপিসির পক্ষ থেকে এপ্রিলের ১৬ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে। তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯ থেকে ২১ এপ্রিল চীনে থাকবেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম বন্ধুপ্রতিম কোনো দেশের আমন্ত্রণে দলটির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বিদেশ সফরে যাচ্ছে। প্রতিনিধিদলে অধিকাংশই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য।

কূটনৈতিক সূত্রে আরও জানা গেছে, সফরে বিএনপির প্রতিনিধিদল বেইজিং ছাড়াও অনহুই ও গুয়াংডং প্রদেশ পরিদর্শন করবে। সফরকালে সিপিসির জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি দুই দলের মধ্যে বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হবে।

বিএনপির এই সফরকে রাজনৈতিক সম্পর্কস্থাপনের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ভূরাজনীতির ক্ষেত্রে এটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

জানা গেছে, গত ২৫ মার্চ চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সিপিসির পক্ষ থেকে ঢাকায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন।

আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়েছে, "চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দীর্ঘদিন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে দুই দলের মধ্যে যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা চীন–বাংলাদেশ সম্পর্কোন্নয়ন এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিদ্যমান এই সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের পক্ষ থেকে বিএনপির ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদলকে চীন সফরে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।"

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে বিএনপিসহ বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক জোড়ার জন্য চীনের তৎপরতা শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিএনপির অন্তত চারটি প্রতিনিধিদল চীন সফর করেছে।