ব্রাজিলের সেই ২৩ লাল কার্ডের ঘটনার এক মাসও পার হয়নি, ফ্রান্সে এক ম্যাচে দেখা গেল ২৪ লাল কার্ড!
গত ৮ মার্চ ব্রাজিলে মিনেইরো চ্যাম্পিয়নশিপের ক্রুজেইরো ও আতলেতিকো মাদ্রিদ ফাইনাল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই মারামারিতে ক্রুজেইরোর ১২ এবং আতলেতিকোর ১১ ফুটবলারসহ কর্মকর্তা মিলিয়ে মোট ২৩ জনকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। তখন প্রশ্ন ওঠে, এটাই কি ফুটবল ম্যাচে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ডের বিশ্ব রেকর্ড?
ব্রাজিলে সিনিয়র পর্যায়ে এটা সর্বোচ্চ লাল কার্ডের রেকর্ড হলেও বিশ্ব রেকর্ড আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে। ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগে আতলেতিকো ক্লেপোল ও ভিক্টোরিয়ানো অ্যারেনাসের ম্যাচে দুই দলের সব খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ মিলিয়ে ৩৬ জন লাল কার্ড পান।
ফ্রান্সের অপেশাদার ফুটবলে আঞ্চলিক দ্বিতীয় বিভাগের লিগে আভেনির দে গিয়ি ও ইন্দেপেন্দান্ত দে মোরোনের ম্যাচ আর্জেন্টিনার রেকর্ডের কাছাকাছিও যায়নি। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়েস্ত ফ্রান্স’ জানিয়েছে, সম্প্রতি মোরবিয়ানের এই আঞ্চলিক ডার্বিতে ২৪ জনকে লাল কার্ড দেখানো হয়। চরম বিশৃঙ্খলায় পরিণত ম্যাচে দাঙ্গা থামাতে শেষ পর্যন্ত ‘জেনদামারি’ (ফরাসি আধা সামরিক পুলিশ) মাঠে নামতে হয়।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ২-২ গোলে ড্র শেষ হওয়ার পর সবকিছু স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। কিন্তু রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। সমর্থকদের কথা-কাটাকাটি তাৎক্ষণিক গণমারামারিতে রূপ নেয়। এতে জড়িয়ে পড়েন খেলোয়াড়রা, এমনকি এক খেলোয়াড়ের অভিভাবকও।
‘ওয়েস্ত ফ্রান্স’ জানিয়েছে, মোরনের এক খেলোয়াড়ের বাবা ছেলেকে বাঁচাতে মাঠে ঢুকে পড়েন। সমর্থক ও খেলোয়াড়রা একে অপরকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন, কয়েকজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। স্টেডিয়ামে তখন আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেফারি চরম পদক্ষেপ নেন। ম্যাচে অংশগ্রহণকারী ২৭ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৪ জনকে লাল কার্ড দেখান তিনি। এর মধ্যে আভেনিরের ১৩ ও মোরনের ১১ জন। ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে এমন গণ-লাল কার্ড আগে কখনো দেখা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মারামারির সময় কেউ কেউ লাঠিও ব্যবহার করেন। পরে ‘জেনদামারি’ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ততক্ষণে মারামারি কিছুটা থিতিয়ে আসে।
আঞ্চলিক শৃঙ্খলা কমিটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে। ধারণা করা হচ্ছে, উভয় ক্লাবকেই বড় শাস্তি মিলতে পারে।






