ঢাকার কল্যাণপুর জাহাজবাড়িতে ২০১৬ সালে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সোমবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশনের বক্তব্য উপস্থাপনের দিন ছিল। কিন্তু তা হয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ আজ আগামী ৬ মে এই বক্তব্য উপস্থাপনের তারিখ নির্ধারণ করেন।

প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, সম্প্রতি যোগদানকারী চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এই মামলা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখবেন বলে আজ বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

এই মামলায় মোট ৮ জন আসামি। তাদের মধ্যে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামসহ অন্যরা পলাতক।

‘মেটিকুলাস ডিজাইন ও হত্যাকাণ্ডের দায়’

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মামলায় দ্বিতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২-এ ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী এই যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন।

যুক্তিতর্কে মনসুরুল হক বলেন, “২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। পরে কয়েকজন ছাত্রসহ যুক্তরাষ্ট্রে যান অধ্যাপক ইউনূস। সেখানে তিনি জুলাই আন্দোলনকে ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাহলে সে সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দায় কার ঘাড়ে যায়? সত্যিকারের হত্যাকারী কারা? এই বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের উপেক্ষা করা উচিত হবে না।”

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ‘মিরর নাউ’ নামক ভারতীয় টেলিভিশনে হাসানুল হক ইনু কথা বলেছিলেন। ট্রাইব্যুনালে সেই সাক্ষাৎকার দেখানো হয়। পরে মনসুরুল হক বলেন, পুরো সাক্ষাৎকার দেখলে বোঝা যায়, হাসানুল হক ইনু তৎকালীন সরকারের অংশ হিসেবে সেখানে কথা বলেননি। শিক্ষার্থীদের আক্রমণ করেও তিনি কোনো কথা বলেননি।

এই মামলার একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনু। আজ যুক্তিতর্কের সময় তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।