দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের দুই শীর্ষ তারকা মাঠে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তারা একই পক্ষে। তারা হলেন লামিনে ইয়ামাল এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে আগামীকাল রাতে রিয়াল মাদ্রিদ বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হবে। আজ এই ম্যাচের সংবাদ সম্মেলনে রিয়ালের উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস বর্ণবাদ নিয়ে কথা বলেন। কিছুদিন আগে স্পেনের হয়ে প্রীতি ম্যাচ শেষে বার্সার তারকা ইয়ামালও বর্ণবাদ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। সেই প্রসঙ্গে ভিনিসিয়ুস বলেন, ইয়ামালের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন।
ভিনিসিয়ুস বলেন, “গরিব এবং কৃষ্ণাঙ্গ, যাঁরা সব জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন, তাঁদের জন্য লড়াইটা বেশি কঠিন। আমরা খেলোয়াড় হিসেবে বিখ্যাত, আমাদের অর্থ আছে, তাই আমরা অনেক কিছু সামলে নিতে পারি। জার্মানি, স্পেন কিংবা পর্তুগাল—এগুলো বর্ণবাদী দেশ নয়, কিন্তু এসব দেশেও কিছু বর্ণবাদী মানুষ আছে, যেমনটা ব্রাজিলেও আছে। এটাই বাস্তবতা। আমরা যদি একসঙ্গে এই লড়াই চালিয়ে যাই, তবে ভবিষ্যতে নতুন খেলোয়াড়সহ সবাই এমন পরিস্থিতি এড়াতে পারবে।”
গত ৩১ মার্চ রাতে বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে স্পেন-মিসর গোলশূন্য প্রীতি ম্যাচে গ্যালারিতে মুসলিমবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়। ম্যাচ শেষে স্পেনের তারকা ইয়ামাল এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্লোগানগুলো সরাসরি তাঁকে লক্ষ্য করেনি তবু তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি নেন।
ইয়ামাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টে লেখেন, “আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। স্টেডিয়ামে “তুমি যদি লাফ না দাও, তবে তুমি মুসলিম”—এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। আমি জানি, এগুলো প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে আমাকে নয়। তবু একজন মুসলিম হিসেবে এটি অসম্মানজনক এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”
ইয়ামাল আরও লেখেন, “আমি বুঝি, সব সমর্থক এমন নয়। কিন্তু যারা এ ধরনের স্লোগান দেয়, তাদের বলব—স্টেডিয়ামের ভেতরে অন্যদের নিয়ে উপহাস করতে ধর্মকে ব্যবহার করা অজ্ঞতা ও বর্ণবাদী আচরণ।” এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “মুষ্টিমেয় অসভ্য লোকের আচরণে স্পেনকে আমরা কলঙ্কিত হতে দিতে পারি না। স্পেন একটি বহুত্ববাদী ও সহনশীল দেশ।” স্থানীয় পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
স্প্যানিশ ফুটবলে ভিনিসিয়ুস নিজেও একাধিকবার বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন এবং এর বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার। ইয়ামাল ইনস্টাগ্রামে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানোর পর সেই পোস্টে ‘লাইক’ দিয়ে তাঁকে সমর্থন জানান ভিনি। শুধু ভিনি নয়, মরক্কোর আশরাফ হাকিমি, ফ্রান্সের পল পগবারাও ইয়ামালকে সমর্থন দেন।






