তিন দিন ধরে ছানাদের খোঁজে অস্থির হয়ে পড়েছিল মা বিড়াল। খাওয়া-দাওয়া ছুঁড়ে ফেলে সে সারাক্ষণ তাদের খুঁজতে বেড়াচ্ছিল। শেষমেশ জানা গেল, ছানারা বাড়ির ১০ ফুট গভীর পরিত্যক্ত পানির ট্যাংকিতে পড়ে আছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অভিযান চালিয়ে জীবিত অবস্থায় তিনটি ছানাকে উদ্ধার করেন এবং মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন।

ঘটনাটি ঘটেছে নাটোর শহরের কানাইখালী চালপট্টি সড়কের হাবিবুর রহমানের বাড়িতে। গতকাল রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে বিড়ালছানা উদ্ধারের এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রশংসায় ভরে উঠেছেন উদ্ধারকাজে অংশগ্রহণকারী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

বাড়ির মালিক ব্যাংক কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তাঁর বাড়ির সিঁড়ির নিচে একটি বিড়াল তিনটি ছানা দেয়। মা বিড়ালটি সব সময় ছানাদের আশপাশে থাকত। ছানাগুলো খেলাধুলা করতে বেড়ালেও হঠাৎ তিন দিন আগে থেকে তাদের আর দেখা যায়নি। তবে মা বিড়াল সেখানেই ছিল এবং না খেয়ে সারাক্ষণ ম্যাও ম্যাও করে কান্নাকাটি করছিল।

গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে বাড়ির সিঁড়ির নিচে থাকা পরিত্যক্ত পানির ট্যাংকির ভেতরে ছানাদের অবস্থান টের পায় হাবিবুর রহমানের নাতি সাকিব হোসেন। পরে পরিবারের সদস্যরা নানা উপায়ে উদ্ধার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

খবর পেয়ে নাটোর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা আবদুর রউফের নেতৃত্বে একটি দল গতকাল রাত নয়টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় তারা জীবিত অবস্থায় তিনটি বিড়ালছানাকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন। ক্ষুধার্ত ছানাগুলো সঙ্গে সঙ্গে মা বিড়ালের দুধ পান করতে শুরু করে। এ দৃশ্য দেখে উপস্থিত সবাইসহ ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও আপ্লুত হয়ে ওঠেন।

হাবিবুর রহমান আরও জানান, পরিত্যক্ত ট্যাংকিটি প্রায় ১০ ফুট গভীর এবং মুখটি সরু। ঢাকনায় সামান্য ফাঁক থাকায় ছানাগুলো সেখানে পড়ে যায়। সরু মুখের কারণে তাদের উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ সময় মা বিড়ালটিও ট্যাংকের ভেতরে ঝাঁপ দিয়ে ছানাদের কাছে ছিল।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আবদুর রউফ বলেন, ‘মা বিড়াল ও তার ছানাগুলোকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে পেরে আমরা আনন্দিত। প্রাণীদেরও জীবন ও অনুভূতি আছে—এই ভালোবাসা থেকেই আমরা উদ্ধারকাজে এগিয়ে গেছি।’