দেশের জনসংখ্যার একটি অংশ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা। অনেকে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সুবিধার অভাবে মূল অর্থনৈতিক ধারা থেকে পিছিয়ে পড়েছেন। তাঁদের সঞ্চয়ের মানসিকতা জাগিয়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি) একটি বিশেষ সঞ্চয়ী স্কিম চালু করেছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ অনুসারে, ১৮ বছরের বেশি বয়সী শারীরিক বা মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক এই স্কিমে যোগ দিতে পারেন। এতে অর্থ জমা রেখে সর্বোচ্চ ১১ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যায়।
২০২৪ সালের মার্চে কৃষি ব্যাংক ‘অপরাজিত স্কিম’ নামে এই সঞ্চয়ী স্কিম চালু করে। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত অর্থাৎ গত দুই বছরে স্কিমটিতে যুক্ত হয়েছেন ৭১৬ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি। এদিকে তাঁদের মোট সঞ্চয় দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩–এর ২(১০) ধারা অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কৃষি ব্যাংকের ‘অপরাজিত স্কিম’-এ সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে পারেন। এদের মধ্যে রয়েছেন অটিজম বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার, শারীরিক-মানসিক অসুস্থতাজনিত ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতা, দৃষ্টি, বাক্, শ্রবণ ও শ্রবণ-দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা, সেরিব্রাল পালসি, ডাউন সিন্ড্রোম, বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধিতাসহ অন্যান্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা।
কৃষি ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহকেরা একক, যৌথভাবে বা অভিভাবকের মাধ্যমে এই সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে পারেন। সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত এতে জমা দেওয়া যায়।
স্কিমটিতে জমার মেয়াদভিত্তিক আকর্ষণীয় মুনাফা রয়েছে। তিন বছর মেয়াদে ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ, পাঁচ বছরে সাড়ে ১০ শতাংশ এবং ছয় বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ ১১ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপক মো. আবদুস সামাদ জানান, দেশে প্রায় ৪৬ লাখ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ আছেন। তাঁদের ব্যাংকিং সেবায় আনতে এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাজিত স্কিম চালু করেছে কৃষি ব্যাংক।
আবদুস সামাদ আরও বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মূলধারার অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের স্কিমের মাধ্যমে তাঁদের পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ে উৎসাহিত করা হয়।






