কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কাঠেরপুল এলাকায় পদচারী সেতু নির্মাণের দাবিতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে। রোববার দুপুরে চান্দিনা ও পাশের দেবীদ্বার উপজেলার কয়েক গ্রামের শিক্ষার্থীসহ মানুষজন কাঠেরপুল এলাকায় মহাসড়ক ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে অবরোধকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে দাঁড়ায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের জানানো মতে, পদচারী সেতু নির্মাণের দাবিতে অবরোধের কারণে মহাসড়কের ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী উভয় লেনে প্রায় ছয় কিলোমিটার যানজট হয়। খবর পেয়ে বেলা একটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম (শাওন), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হকসহ উপজেলা প্রশাসন, থানা ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা। সংসদ সদস্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদচারী সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলে অবরোধকারীরা মহাসড়ক ছাড়ে।
জানা গেছে, গত বুধবার কাঠেরপুল এলাকায় মহাসড়ক পারাপারের সময় লরিচাপায় প্রাণ হারায় চান্দিনার বড়গোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ইবনে তাইম। ওই ঘটনায় শুক্রবার কাঠেরপুল এলাকায় মানববন্ধন করেন চান্দিনা ও দেবীদ্বার উপজেলার সাতটি গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কিন্তু পদচারী সেতু নির্মাণে কোনো আশ্বাস পাননি তাঁরা। কাঠেরপুল এলাকাটি ব্যস্ততম হওয়ায় এখানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি। এ কারণেই এলাকার মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে।
অবরোধকারীদের বক্তব্য, মহাসড়কের কাঠেরপুল অংশের এক পাশে দেবীদ্বার উপজেলা এবং অন্য পাশে চান্দিনা উপজেলা। দেবীদ্বার উপজেলার অন্তত পাঁচটি গ্রামের মানুষ ওই অংশ অতিক্রম করে প্রতিদিন চান্দিনা বাজার ও স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। এ ছাড়া চান্দিনার রারিরচর ও গোবিন্দপুর গ্রামের মানুষও বেশিরভাগ ওই অংশ দিয়ে মহাসড়ক অতিক্রম করে। গত তিন বছরে ওই স্থানে চারজন স্কুলশিক্ষার্থীসহ অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
চান্দিনার রারিরচর গ্রামের বাসিন্দা আসাদুজ্জামান রাসেল বলেন, ‘এই স্থানে পদচারী–সেতু, ইউলুপ বা আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু কেউই বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। এর সর্বশেষ পরিণতি নবম শ্রেণির ছাত্র ইবনে তাইমের প্রাণহানি। আমরা এমন মৃত্যু আর দেখতে চাই না। দ্রুত সমস্যার সমাধান চাই।’
বিষয়টি নিয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘মহাসড়কের কোনো স্থানে যদি পদচারী–সেতু নির্মাণ প্রয়োজন হয়, তাহলে মহাসড়ক অবরোধ করার আগে আমাদের কাছে লিখিত আবেদন করা প্রয়োজন। আমরা সে আবেদনটি আমাদের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর পর সেখান থেকে একটি টেকনিক্যাল টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মতামত দেবে। তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর বাইরে মহাসড়ক অবরোধ করা অযৌক্তিক। আমরা বিষয়টি দেখব।’






