মুর্শিদাবাদে ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় নবাব মীর জাফর আলী খানের প্রায় ৩০০ বংশধরের নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন মীর জাফরের বংশধর ‘ছোটে নবাব’ নামে পরিচিত সৈয়দ রেজা আলী মির্জাও। এ ঘটনা নিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলায় রাজনৈতিক বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সৈয়দ রেজা আলী মির্জার ছেলে সৈয়দ ফাহিম মির্জা মুর্শিদাবাদ পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর। তিনি বলেন, তাঁর দশম পূর্বপুরুষ ছিলেন মীর জাফর আলী খান। ফাহিম মির্জা আরও বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষেরা অন্তত ২৮৬ বছর ধরে মুর্শিদাবাদ শহরের কেল্লা নিজামতে বসবাস করছেন। অথচ এবার ভোটার তালিকা থেকে আমাদেরই নাম মুছে ফেলা হলো।”

‘আমাদের পূর্বপুরুষেরা অন্তত ২৮৬ বছর ধরে মুর্শিদাবাদ শহরের কেল্লা নিজামতে বসবাস করছেন। অথচ এবার ভোটার তালিকা থেকে আমাদেরই নাম মুছে ফেলা হলো।’
ফাহিম মির্জা, মুর্শিদাবাদ পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর

কাউন্সিলর ফাহিম মির্জা জানান, তাঁর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ১ হাজার ৭০০ ভোটারের মধ্যে ৩৮৬ জনের নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে ১০০-এর বেশি নবাব পরিবারের সদস্য। নবাবি দুর্গ এলাকা ও আশপাশে নবাব পরিবারের প্রায় তিন হাজার সদস্য বাস করেন, যাদের মধ্যে প্রায় দুই হাজার ভোটার। সংশোধনীতে তাঁদের মধ্য থেকে প্রায় ৩০০ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। রেজা আলী মির্জা এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে আপত্তি জানাতে যোগাযোগ করবেন বলে জানা গেছে।

ঐতিহাসিকভাবে, ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর মুর্শিদাবাদে মীর জাফরের বংশধররা নবাবি শুরু করেন। মুর্শিদাবাদের জাফরাগঞ্জে মীর জাফরের প্রাসাদের পাশে তাঁদের পারিবারিক কবরস্থান রয়েছে। সেখানে মীর জাফর, তাঁর স্ত্রীসহ বংশধরদের প্রায় ১ হাজার ১০০টি কবর আছে। তবে সিরাজউদ্দৌলার হন্তাকারক মীর জাফরের পুত্র মিরণের কবর সেখানে নেই। লোকমুখে বলা হয়, মিরণ পূর্ণিয়ায় ব্রিটিশদের সঙ্গে লড়াইয়ে বা বজ্রাঘাতে মারা যান। অন্যদিকে সিরাজউদ্দৌলার স্মৃতিবিজড়িত হীরাঝিল প্রাসাদ ভাগীরথী নদীতে বিলীন হলেও নদীর ওপার খোশবাগে তাঁর দাদা আলীবর্দি খাঁ, স্ত্রী লুৎফা বেগম ও কন্যার কবর সংরক্ষিত রয়েছে।

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শাওনি সিংহ রায় বলেন, “ছোটে নবাব ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মূলত যাঁরা বিজেপিকে ভোট দেবেন না, তাঁদের নামই বেছে বেছে মুছে ফেলা হয়েছে।”

বিজেপির রাজ্য সম্পাদক শাখারভ সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি পাল্টা বলেন, “বুথ স্তরের যেসব কর্মকর্তা ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করেছেন, তাঁদের অধিকাংশ তৃণমূলের সমর্থক। ফলে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার দায় তৃণমূলেরই, বিজেপির নয়।”