যুক্তরাষ্ট্র দুই নারীর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাতিল করেছে। মার্কিন সরকারের জানানো, এদের একজন ইরানের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানির ভাতিজি এবং অন্যজন তার মেয়ে।
কাসেম সোলাইমানি ২০২০ সালে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান ছিলেন। এটি ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বৈদেশিক শাখা।
গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, কাসেম সোলাইমানির ভাতিজি হামিদেহ সোলাইমানি আফশার এবং তার মেয়েকে গত শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে দুজনই অভিবাসনবিরোধী আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই) হেফাজতে আছেন। যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিতাড়িত করতে চায়।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বাকস্বাধীনতার সীমা এবং পারিবারিক সম্পর্কের কারণে কাউকে দায়ী করা উচিত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট উদ্ধৃত করে পররাষ্ট্র দপ্তর হামিদেহ সোলাইমানি আফশারকে ‘ইরানের স্বৈরাচারী ও সন্ত্রাসী শাসনের একজন সরব সমর্থক’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে এ ধরনের বক্তব্য সহ্য করা হবে না।
পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ট্রাম্প প্রশাসন আমাদের দেশকে এমন বিদেশি নাগরিকদের আশ্রয়স্থল হতে দেবে না, যারা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করে।’
তবে ইরানি গণমাধ্যম কাসেম সোলাইমানির মেয়ে জয়নাব সোলাইমানির বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া দুই নারীর সঙ্গে প্রয়াত কুদস ফোর্স নেতার কোনো সম্পর্ক নেই। জয়নাব এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে শহীদ সোলাইমানির কোনো সম্পর্ক নেই এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
এই গ্রেপ্তার ঘটেছে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পাঁচ সপ্তাহ পর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে। গতকাল মার্কিন সরকারের ঘোষণা চলতি মাসে দ্বিতীয়বারের মতো, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে কারও বৈধ অভিবাসন মর্যাদা বাতিল করেছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দুই নারীর গ্রিন কার্ড বাতিলের সিদ্ধান্তে নিজের কৃতিত্ব দাবি করেছেন। রুবিওর দাবি, হামিদেহ সোলাইমানি আফশারের মন্তব্যের কারণেই তাকে এবং তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘এই সপ্তাহে আমি আফশার এবং তাঁর মেয়ের বৈধভাবে অবস্থানের অনুমতি বাতিল করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তিনি (আফশার) ইরানি শাসনব্যবস্থার একজন সরব সমর্থক, যিনি মার্কিন নাগরিকদের ওপর হামলাকে উদযাপন করেছেন এবং আমাদের দেশকে “বড় শয়তান” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।’
পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের বিবৃতিতে আফশারের লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘অতিশয় বিলাসবহুল জীবনধারাকেও’ তুলে ধরেছে। আফশারের স্বামীরও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।






