ফোনের ওপার থেকে মোহাম্মদ রফিকের উচ্ছ্বাস স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছিল। কথা শুরুতেই তিনি বললেন, “আগে কাজটা শুরু করি…।” মাঠে নেমে নিজেকে প্রমাণ করতে চান জাতীয় দলের এই সাবেক তারকা বাঁহাতি স্পিনার। আগে অনেকবার বিসিবির কোচ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি, কিন্তু সেটা পূরণ হয়নি।
গতকাল বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, এক বছরের জন্য তাঁকে বিসিবির স্পিন কোচ করা হবে। খবর পাওয়ার কথা জানিয়ে রফিক বলছিলেন, “ফাহিম ভাই ফোন করেছিল। বলল, তোমাকে আমাদের দরকার। তুমি দেশকে অনেক কিছু দিতে পারো। দু-এক দিনের মধ্যে হয়তো পুরো কথা হবে।”
ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন কাল সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ‘রেডিমেড’ হিসেবে স্পিন বোলিংয়ের কাজ করতে পারবেন বলে রফিককে বেছে নিয়েছেন তারা। পরে আরও স্থানীয় স্পিন বোলিং কোচ তৈরি করতে চান। রফিকের সঙ্গে কাজ করে ক্রিকেটাররা উপকৃত হবে বলেও নাজমূলের বিশ্বাস।
রফিক শুধু শেখানোর পাশাপাশি ক্রিকেটারদের কাছ থেকেও শিখতে আগ্রহী। তিনি বললেন, “শেখার ও জানার তো কোনো শেষ নেই। হতে পারে আমি যাদের শেখাব, ওদের থেকে আমি অনেক কিছু শিখতে পারি। ওরাও আমার থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে। এই দুটির একটা সমন্বয় থাকতে হবে।”
জাতীয় দলের হয়ে ৩৩ টেস্টে ১০০ উইকেট, ১২৫ ওয়ানডেতে ১২৫ উইকেট এবং টি-টুয়েন্টিতে ১ ম্যাচে ১ উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ রফিক। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সব সময়ের সেরা স্পিনারদের একজন তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক চাপ থাকে, সেটাকে আগে থেকে সামলানো শিখতে হবে। আর ছেলেরা যত তাড়াতাড়ি উইকেট এবং ব্যাটসম্যানকে বুঝতে পারবে, তত ভালো করবে। চেষ্টা করব এসব জায়গায় পরামর্শ দেওয়ার।মোহাম্মদ রফিক
খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানার পর নিজের ব্যবসায় মনোযোগী ছিলেন রফিক। তবে ঘরোয়া ক্রিকেট ও বিপিএলে মাঝেমধ্যে কোচিংয়ে দেখা গেছে তাঁকে। সর্বশেষ বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের স্পিন বোলিং কোচ ছিলেন। বিসিবির অধীনে কখনো কোচিং করেননি তিনি।
এবার এক বছরের দায়িত্ব পেয়ে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান রফিক। বোলারদের জন্য নিজস্ব পরিকল্পনার কথা বললেন তিনি, “আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক চাপ থাকে, সেটাকে আগে থেকে সামলানো শিখতে হবে। আর ছেলেরা যত তাড়াতাড়ি উইকেট এবং ব্যাটসম্যানকে বুঝতে পারবে, তত ভালো করবে। চেষ্টা করব এসব জায়গায় পরামর্শ দেওয়ার।”






