বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি অতীতের সব ওয়াদা ভুলে গেছে। তিনি বলেন, ভোটের দিন পর্যন্ত বর্তমান সরকারি দল ও বিরোধী দলের অবস্থান একই ছিল। কিন্তু ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর তারা বদলে গেছে।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুরের দক্ষিণ পীরেরবাগে ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শফিকুর রহমান। ‘পীরেরবাগের সর্বস্তরের জনগণ (১৩ নং ওয়ার্ড)’ ব্যানারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জামায়াতের আমির বলেন, সরকার যদি জনগণের অধিকার লঙ্ঘন করে, তাহলে ইতিবাচকভাবে সেটা ধরিয়ে দিয়ে সহযোগিতা করবে বিরোধী দল। কিন্তু সরকার যদি এই সহযোগিতা গ্রহণ না করে মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের ক্ষতি করতে থাকে, তখন বিরোধী দল প্রতিবাদ করবে, প্রয়োজনে প্রতিরোধ করবে।
শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দুটি নির্বাচন হয়েছিল। একটি সংসদ নির্বাচন, আরেকটি গণভোটের নির্বাচন। ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। অন্যদিকে গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে ৬৮ শতাংশের বেশি মানুষ। তবে গণভোটের এই গণরায় ইতিমধ্যে সরকারি দল অস্বীকার করেছে।
বিরোধীদলীয় নেতা উল্লেখ করেন, বিএনপির ৩১ দফার প্রথম দফায় আছে, তারা ক্ষমতায় এলে সংস্কার কমিশন গঠন করে সংবিধানের ওই সব ধারা সংস্কার করবে, যেসব ধারা অতীতে সরকারকে ফ্যাসিবাদী বানিয়েছে। এখন বিরোধী দল সংস্কারের কথা বললে সরকারি দল বলে সংবিধানে সংস্কারের কথা নেই।
সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে গতকাল বিকেলে ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমাবেশের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দাবি আদায়ের পক্ষে প্রথম কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে। এটা শেষ নয়, শুরু। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি আদায় করা হবে।
জ্বালানিসংকটকে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরাও এই সমস্যা নিরসনে অবদান রাখতে চাই। খোলামেলা আলোচনা করুন। সত্য কথা প্রকাশ করুন। সমস্যাগুলো তুলে ধরুন। আমরা সবাই মিলে সমাধান করব।’
সরকারকে যারা তেল মারে, তারাই তেলের সংকটের আসল চিত্র দেখতে দিচ্ছে না উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই তেলে অনেকেই অতীতে পিছলে গিয়ে কোমর ভেঙেছে। আমরা চাই না আপনারা দেশকে নিয়ে কোনো বিপদে পড়েন।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন দলের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন মানিকসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা–কর্মীরা।






