গণভোটের রায় কার্যকর করার দাবিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯ এপ্রিল সারা দেশের জেলা-উপজেলায় বিক্ষোভ এবং ২৪ এপ্রিল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাহী পরিষদের মাসিক বৈঠক হয়। সামনে বসে এ ঘোষণা দেন দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বৈঠক পরিচালনা করেন মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদ।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, "যে সংবিধানের দোহাই দিয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা আজীবন ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেছিল, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সুনির্দিষ্ট বিষয়ে সুস্পষ্ট রায় দেওয়ার পরও বিএনপি সেই সংবিধানের সংস্কার করতে চায় না; বরং তারা এতে কিছু সংশোধনী এনে আরও ভয়ংকর স্বৈরাচারীরূপে আবির্ভূত হতে চায়।"

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিএনপি গণভোটে নির্দিষ্ট বিষয়ে জনগণের দেওয়া সুস্পষ্ট রায় অমান্য করছে বলে অভিযোগ করেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, "পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশে সরকার নিজ জনগণের সঙ্গে এমন ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছে—এমন নজির জানা নেই।"

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি অসংখ্য অধ্যাদেশ এখন বাতিল ও সংশোধন করা হচ্ছে উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, এসব অধ্যাদেশ জারির সময় বিএনপি কোনো বিরোধিতা করেনি। ক্ষেত্র বিশেষে কিছু অধ্যাদেশকে স্বাগত জানিয়েছে এবং কিছু তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জারি হয়েছিল। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিএনপি সরকার মূলত গণভোটের রায়কে অমান্য করছে, যা একটি ভয়ংকর সংকটের সূচনা।

বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, মুফতি সাঈদ নূর, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা আবদুল আজীজ, মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী ও মাওলানা শরীফ সাইদুর রহমান।