চলতি এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। গতকাল অন্তত ২৭ জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে। তবে ২০২৪ সালে দেশে যতটা গরম পড়েছিল বা যেভাবে টানা ৩৬ দিন ধরে তাপপ্রবাহ চলেছিল, এবার তা না–ও হতে পারে।

আজ শনিবারও বিভিন্ন স্থানে তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। গতকাল রাজধানীতে তাপমাত্রা আগের দিনের চেয়ে বেড়ে যায়। তবে আজ শরীয়তপুরসহ কিছু এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর কাছাকাছি কয়েকটি এলাকাতেও আজ বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র।

সূত্র জানিয়েছে, গতকাল রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের সর্বত্র এবং ঢাকাসহ ৯ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে মোট জেলার সংখ্যা ১৮। এর সঙ্গে ৯ জেলা যুক্ত হয়ে মোট ২৭ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। ঢাকা ছাড়া বাকি যে আট জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে, সেই জেলাগুলো হলো ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, রাঙামাটি, বরিশাল ও পটুয়াখালী।

কোনো এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে সেখানে মৃদু তাপপ্রবাহ বলে ধরা হয়। ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে মাঝারি তাপপ্রবাহ। ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ৪২ ডিগ্রির বেশি হলে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ।

গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর রাজশাহীতে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৩৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আগের দিন ছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তবে রোববার থেকে দেশের কিছু এলাকায় ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। তাতে তাপপ্রবাহ কমে যেতে পারে সাময়িকভাবে।"

আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রতি মাসের শুরুতে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেয়। এপ্রিল মাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসে এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে। এ ছাড়া দুই থেকে চারটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা আছে।

অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের মতে, এবারের এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিক বা তার কাছাকাছি থাকলেও গরমের তীব্র অনুভূতি বজায় থাকবে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল (খুলনা বিভাগ), ঢাকা, সিলেট ও বরিশালের কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ বেশি হতে পারে।

২০২৪ সালে বাংলাদেশ ৭৬ বছরের মধ্যে দীর্ঘতম ৩৫ দিনের টানা তাপপ্রবাহ প্রত্যক্ষ করেছিল। তবে এবার তেমন পরিস্থিতি না–ও হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবুল কালাম মল্লিক। এর কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি মাসে একাধিক বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা আছে। তেমনটা হলে তীব্র গরম পড়লেও তা প্রশমিত হয়ে যেতে পারে। আবার নতুন করে গরম পড়তে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তাপপ্রবাহ থাকবে, এ আশঙ্কা কম।

এপ্রিল মাসে গড়ে ৯টি বজ্রঝড় হয়। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেও তেমনটা হয়েছিল। এ মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি এবং এক থেকে তিন দিন তীব্র কালবৈশাখী বা বজ্রঝড় হতে পারে। এ ছাড়া সাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। আর এ লঘুচাপ থেকে একটি নিম্নচাপ বা সেখান থেকে ঘূর্ণিঝড়ও হতে পারে।

এখন তাপপ্রবাহের ধরন বদলেছে এবং এটি এখন বর্ষাকাল অর্থাৎ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে দেখা যাচ্ছে। সেই দিকটি তুলে ধরে আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এখন তাপমাত্রা যা–ই থাকুক, গরমের তীব্রতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অনুভূত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগামী জুন মাস পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসেও উঠে এসেছে, এ সময় তিন থেকে চারটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে এবং ছয় থেকে আটটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হতে পারে।