বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শুধু ব্যক্তিস্বার্থে নয়, দেশের সব মানুষের স্বার্থে যেন জ্বালানি ব্যবহারে আমরা সাশ্রয়ী হই। আমরা সাশ্রয়ী হব যেন আরও জ্বালানি সেভ করতে পারি। সেভ করলে আমরা জ্বালানি দীর্ঘ সময় ব্যবহার করতে পারব। আমরা যদি সেভ করতে পারি, দেশের জন্য জ্বালানি কম আমদানি করতে হবে। এতে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার খরচ কম হবে।’
শুক্রবার বিকেলে সিলেটে নিজ বাসভবনে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। জ্বালানি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে মন্ত্রী মত প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যা ছয়টার পর থেকে বিদ্যুতের ‘পিক আওয়ার’ শুরু হয়। এ সময় বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা গেলে অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো সম্ভব।
বিশ্বের অনেক দেশে শীত ও গ্রীষ্ম মৌসুমে ‘ডে লাইট সেভিংস’ পদ্ধতি চালু রয়েছে উল্লেখ করে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশে তা না থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। মন্ত্রীদের গাড়ির মাসিক জ্বালানি ৩০% কমল, কর্মকর্তাদের গাড়ি কিনতে সুদমুক্ত ঋণও আপাতত বন্ধ।
এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষ করে সৌদি আরবসহ উৎস দেশগুলোতে দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। তবে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে জ্বালানি তেলের দামও স্থিতিশীল থাকবে।
মন্ত্রী আরও জানান, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা এখনো সংসদে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি কার্যকর হলে দেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি (এফটিএ) করার প্রস্তুতিও চলছে, যা এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে রপ্তানিতে সুবিধা দেবে।
এর আগে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে সিলেটে পৌঁছান বাণিজ্যমন্ত্রী। পরে পীরমহল্লা জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিকেলে তিনি তাঁর বাসভবনে স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদসহ ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে গাড়ির ব্যবহার সীমিত করাসহ ১১ দফা নির্দেশনা সরকারের।






