ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং বাবা যোগরাজ সিংয়ের কপিল দেব ও মহেন্দ্র সিং ধোনি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের দায় নিজের ওপর নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। সম্প্রতি এক পডকাস্টে তিনি জানান, বাবার এসব কথার সঙ্গে তাঁর কোনো যোগসূত্র নেই।
‘স্পোর্টস তাকের’ পডকাস্টে যুবরাজ এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলেন। ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট–সেরা এই ক্রিকেটার বলেছেন, “আমি কপিল দেব ও মহেন্দ্র সিং ধোনির কাছে এসব মন্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি বাবাকে বলেছি, এটা মোটেও ঠিক হয়নি।”
বাবার সাক্ষাৎকার শোনার সময় তিনি অত্যন্ত অস্বস্তি বোধ করেন বলেও যুবরাজ জানিয়েছেন। নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে তিনি বলেন, “কপিল দেব গ্রেট ক্রিকেটার ও অধিনায়ক ছিলেন। তাঁর সঙ্গে আমার বাবার ঠিক কী সমস্যা ছিল, তা আমার জানা নেই। আর ধোনির সঙ্গে আমি নিজে খেলেছি, তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক কেমন, তা সব সময়ই প্রকাশ করেছি। কিন্তু বাবা তাঁর সম্পর্কে যা বলেছেন—আমি তাঁকে বলেছি, “এটা একদমই ঠিক নয়।” যেহেতু আমি ধোনির সঙ্গে খেলেছি, তাই এসব কথা আমার ওপরও প্রভাব ফেলে।”
যুবরাজ আরও বলেন, “আমি বাবাকে বলেছি, কারণ যা–ই হোক না কেন, তিনি যদি এসব কথা বলা বন্ধ করেন, তবে আমি খুশি হব। আমি আন্তরিকভাবে তাঁদের দুজনের (কপিল ও ধোনি) কাছে ক্ষমা চাইছি।”
ভারতের হয়ে একটি টেস্ট খেলা যোগরাজ সিং কপিল দেবের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তুলেছিলেন। ‘ইনসাইড স্পোর্ট’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সব সাংবাদিককে জিজ্ঞেস করুন, সুপ্রিম কোর্টে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ফাইল কেন বন্ধ হয়ে গেল? কাদের নাম ছিল সেখানে? প্রথমে কপিল দেবের নাম এসেছিল, এরপর আজহারউদ্দিনসহ আরও অনেকের। কেন সেই ফাইল আর খোলা হলো না? কারণ, তা খুললে অনেক কিংবদন্তির মুখোশ খুলে যেত।”
অন্য সাক্ষাৎকারে যোগরাজ আরও গুরুতর দাবি করেন। ‘আনফিল্টারড বাই সামদিশ’–এ তিনি বলেন, কপিল দেব অধিনায়ক হওয়ার পর দল থেকে বাদ পড়ায় তিনি পিস্তল নিয়ে কপিলের বাড়িতে গিয়েছিলেন। “কপিল কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে দল থেকে বাদ দিয়েছিল। আমার স্ত্রী (যুবরাজের মা) চেয়েছিল আমি যেন বিষয়টি নিয়ে কপিলকে প্রশ্ন করি। আমি তাকে বলেছিলাম, এই লোকটাকে আমি উচিত শিক্ষা দেব। আমি আমার পিস্তল নিয়ে সেক্টর নাইনে কপিলের বাড়িতে যাই। সে তাঁর মায়ের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। আমি তাকে প্রচুর গালিগালাজ করে বলেছিলাম, “তোর জন্য আমি বন্ধু হারিয়েছি, তুই যা করেছিস তার মূল্য তোকে দিতে হবে।”
যোগরাজ আরও যোগ করেন, “আমি তাকে বলেছিলাম, “আমি তোর মাথায় গুলি করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু করছি না, কারণ তোর মা অত্যন্ত পুণ্যবান একজন নারী এবং তিনি এখানে দাঁড়িয়ে আছেন।”
অন্যদিকে, ধোনির বিরুদ্ধে যোগরাজের অভিযোগের মূলে রয়েছেন যুবরাজ। ক্রিকেটার হিসেবে ধোনির প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও যোগরাজের অভিযোগ, দুবারের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ধোনিই যুবরাজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার অকালে শেষ করে দিয়েছেন। যোগরাজ বলেছিলেন, “আমি এম এস ধোনিকে কোনো দিন ক্ষমা করব না। তাঁর উচিত, আয়নায় নিজের মুখ দেখা। তিনি খুব প্রভাবশালী ক্রিকেটার, আমি তাঁকে স্যালুট করি। কিন্তু আমার ছেলের সঙ্গে তিনি যা করেছেন, তা ক্ষমার অযোগ্য। এখন সব সত্য সামনে আসছে। ওই লোকটা আমার ছেলের জীবন নষ্ট করে দিয়েছে, যে আরও অন্তত চার-পাঁচ বছর অনায়াসে খেলতে পারত।”






