জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা–দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামালকে অভ্যর্থনা জানাতে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় সারিবদ্ধ করে দাঁড় করিয়ে রাখায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের গুড়াডোবা হাওরে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণাধীন একটি বাঁধ পরিদর্শনে যাচ্ছিলেন। বেলা ৩টার দিকে উদয়পুর বাজার এলাকায় পৌঁছলে উদয়পুর মিতালী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাস্তার দুপাশে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল তাঁকে সংবর্ধনা জানানোর জন্য। এ দৃশ্য দেখে তিনি গাড়ি থামিয়ে নামেন এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

সেখানে উপস্থিত প্রধান শিক্ষকের কাছে ডেপুটি স্পিকার জানতে চেয়েছেন, কেন শিক্ষার্থীদের এভাবে রাস্তায় দাঁড় করানো হয়েছে। তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, ভবিষ্যতে যেন কোনোদিন শিক্ষার্থীদের এমনভাবে দাঁড় করানো না হয়। আগে জানালে তিনি নিজে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন। সেইসঙ্গে ইউএনওকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

পরবর্তীতে কায়সার কামাল বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের রোদে বা সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করতে পারবে না। কে মন্ত্রী বা এমপি বা স্পিকার—এটা বড় বিষয় নয়। প্রয়োজন হলে আমরা নিজেরাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলব।’

শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্বোধন করে তিনি আরও বলেন, ‘তোমাকে ভালো করে পড়াশোনা করতে হবে। এর বিকল্প কোনো কিছু নেই। লেখাপড়া ছাড়া কেউ কখনো বড় হতে পারে না। এখন তোমরা পাকা ভবনে লেখাপড়া করো, আমি যখন গ্রামীণ স্কুলে পড়েছি তখন চাল চুয়ে বৃষ্টির পানি পড়ত। বই-খাতা ভিজে যেত। কোনো রকম রাস্তাঘাট ছিল না। আর একটা কথা হলো, মোবাইল ফোনে আসক্ত না হয়ে বইয়ের প্রতি আসক্তি বাড়ানোর প্রয়োজন।’

ইউএনও এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।