মহিলাদের চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে গতকাল রাতে বার্সেলোনা রিয়াল মাদ্রিদকে ৬–০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে। দুই লেগের মোট স্কোর ১২–২ গোল হয়েছে এতে। ফলে বার্সেলোনা সেমিফাইনালে উঠেছে।

ক্যাম্প ন্যুতে ৬০ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে এল ক্লাসিকো ম্যাচে বার্সা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে পুরোপুরি দমিয়ে রেখেছে। খেলা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে রিয়ালকে গোলের বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছে তারা।

মহিলাদের রিয়াল-বার্সা দ্বৈরথে ২৫ ম্যাচে এটি বার্সেলোনার ২৪তম জয়। গত ২৫ মার্চ কোয়ার্টার ফাইনাল প্রথম লেগে ৬–২ গোলে জয়ের পর রোববার লিগ ম্যাচেও ৩–০ গোলে রিয়ালকে হারিয়েছে বার্সা। সব মিলিয়ে গত ৮ দিনে তিন ম্যাচে রিয়ালের বিপক্ষে ১৫ গোল করে টানা জয় করেছে তারা।

রাফিনিয়াকে পাঁচ সপ্তাহের জন্য হারিয়ে বিপদে বার্সা। এই জয়ে বার্সেলোনা টানা অষ্টমবার মহিলাদের চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে উঠেছে। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ বায়ার্ন মিউনিখ। চলতি মৌসুমের লিগ পর্বে গত অক্টোবরে এই জার্মান দলকে ৭–১ গোলে হারিয়েছিল বার্সেলোনা।

ঘরের মাঠে ম্যাচের অষ্টম মিনিটে বার্সেলোনার তারকা অ্যালেক্স পুতেয়াস গোলের সূচনা করেন। এটি ছিল তাঁর বার্সার জার্সিতে ৫০০তম ম্যাচ এবং ২৩০তম গোল। এর মাধ্যমে গত সপ্তাহে মাদ্রিদে প্রথম লেগের ৬–২ গোলের জয়ের ব্যবধান আরও বাড়ানোর পথে এগিয়ে যায় বার্সা।

বার্সেলোনার হয়ে গ্রাহাম হানসেন জোড়া গোল করেন। একটি করে গোল করেন ইরিনে পারেদেস, ইউয়া পাজর, ইসমে ব্রুগটস। এটি মহিলাদের এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনার সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় এবং মহিলাদের চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের সবচেয়ে বড় পরাজয়।

এই জয়ে বার্সেলোনা শিরোপা পুনরুদ্ধারের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেছে। গত মৌসুমে আর্সেনালের কাছে শিরোপা হাতছাড়া করেছিল তারা। দারুণ ছন্দে লিগ পর্ব শীর্ষে শেষ করেছে বার্সা, যেখানে তারা ২০ গোল করেছে এবং মাত্র ৩টি গোল হজম করেছে।

ইউরোপের ৯৬ ক্লাবের ভিড়ে বার্সেলোনা যেখানে এগিয়ে। ম্যাচ শেষে দলের জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করে সতীর্থদের কাঁধে চড়ে উদযাপন করেন পুতেয়াস। সমর্থকরা তখন গ্যালারি থেকে একসুরে তাঁর নামে স্লোগান দিচ্ছিল।

পরে ডিজনি প্লাসকে পুতেয়াস বলেন, “আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ, নিজেকে খুব ভালোবাসায় ঘেরা মনে হচ্ছে। সমর্থকেরা সেরা, আমি সব সময়ই এটা বলি। এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি সমর্থকদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক। কারণ, আমরা সব সময় মাঠে নামি জার্সিটাকে সর্বোচ্চভাবে প্রতিনিধিত্ব করার চেষ্টা নিয়ে। দিনের শেষে এমন কিছু দেখা সত্যিই আবেগের।”