সান্তোসের হয়ে দুটি গোলের সৃষ্টিকর্তা হলেন নেইমার, কিন্তু হলুদ কার্ডের জন্য পরবর্তী ম্যাচ থেকে বঞ্চিত। ভিলা বেলমিরায় রেমোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সান্তোস জয়লাভ করলেও ব্রাজিল তারকার অতৃপ্তি রয়ে গেল এই হলুদ কার্ডের নিষেধাজ্ঞায়। ম্যাচে তিনি ভালোই খেলেছেন।
ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে ৪০ মিনিটে সান্তোস মিডফিল্ডার থাসিয়ানোর গোলের উৎস ছিলেন নেইমার। তিনি ডান প্রান্ত থেকে দারুণ লোবে বল বাতাসে ভাসিয়ে রেমোর বক্সে পাঠান। সেখান থেকে গোল করেন থাসিয়ানো। ৮২ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে ডিফেন্সারদের পাস দেন নেইমার। গঞ্জালো এসকোবার সেই পাস ধরে ময়জেসকে দেন, তারপর তিনিই গোল করেন।
কোচ কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণার আগে সান্তোসের হয়ে ১৪টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন নেইমার। তার মধ্যে আজ প্রথম ম্যাচে তিনি পুরো সময় মাঠে ছিলেন—যা কোচ আনচেলত্তির বেঁধে দেওয়া পূর্ণ ফিটনেসে ফেরার শর্ত পূরণ করে। তবে ৮৬ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখায় নেইমারের পরিকল্পনা কিছুটা গড়বড় হয়।
বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ফিরতে নেইমারের এখন টানা ম্যাচ খেলার বিকল্প নেই। সব মিলিয়ে তৃতীয় হলুদ কার্ড দেখে সান্তোসের পরের ম্যাচে খেলতে না পারাটা তাঁর জন্য বড় ধাক্কা। রেমোর ডিয়েগো হার্নান্দেজ পেছন থেকে কড়া ফাউল করেন নেইমারের ওপর। রেগে তিনি হার্নান্দেজের দিকে ছুটে যান। এ সময় দুই দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। রেফারি সাভিও পেরেইরা সাম্পাইও নেইমারকে হলুদ কার্ড দেখান।
মাঠ ছাড়ার সময় রেফারির ওপর নেইমারের রাগ স্পষ্ট বোঝা যায়। স্পোরটিভির সঙ্গে কথায় তিনি বলেন, “এটা অন্যায়। কারণ, আমাকে পেছন থেকে ফাউল করা হয়েছে। কোনো দরকার ছিল না। আর ওটাই প্রথম ফাউল নয়, তৃতীয় কিংবা চতুর্থ ফাউল। আমি তার কাছে অভিযোগ করতে গিয়ে হলুদ কার্ড দেখেছি।”
নেইমার এখানেই থামেননি। রেফারির সমালোচনা করে আরও বলেন, “সাভিও এমনই...সে ম্যাচের তারকা হতে চায়। খেলোয়াড়দের প্রতি তার আচরণ মোটেও সম্মানজনক নয়। কারও কথা শুনতে চায় না। সবখানে আধিপত্য বজায় রাখতে চায়। তাকে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কৌশল শিখতে হবে। রীতিমতো অশ্রদ্ধার পর্যায়ে চলে যাচ্ছে তার আচরণ।”
মারাকানায় আগামী রববার ফ্ল্যামেঙ্গোর সঙ্গে মুখোমুখি হবে সান্তোস। হলুদ কার্ড নিষেধাজ্ঞার কারণে এই ম্যাচে নেইমার খেলতে পারবেন না। এতে একটি অসুবিধা হলো। ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করার আগে এই ম্যাচটি নেইমারের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যেহেতু হাইপ্রোফাইল ম্যাচ, নেইমার তাতে ভালো খেললে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকার দৌড়ে আরও এগিয়ে যেতে পারতেন। ৯ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ২০ দলের তালিকায় ১৩তম সান্তোস।






