জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, দেশের মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে রাজপথে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশালের চরমোনাই দরবার শরিফের বার্ষিক মাহফিলের দ্বিতীয় দিনে তিনি এসব কথা বলেন।
আগে সকালে এনসিপির একটি প্রতিনিধিদল আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে চরমোনাই দরবারে পৌঁছে। সেখানে দলটির সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়ে অংশ নেন চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। এ সময় কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি উভয় পক্ষ সমসাময়িক রাজনীতি, সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
মাহফিল মঞ্চে বক্তব্য দিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “ছোটবেলা থেকে এই মাহফিলের কথা শুনতাম। কিন্তু এবার প্রথম এখানে আসার সৌভাগ্য হয়েছে।”
দীর্ঘ ১০২ বছর ধরে এ মাহফিল আয়োজনের জন্য চরমোনাই দরবার কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা ইসলামের খেদমতের জন্য এখানে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে সমবেত হয়েছেন। নিজেরা রান্না করে খাওয়াদাওয়া করছেন। এই আত্মত্যাগই হচ্ছে ইসলামের সৌন্দর্য।”
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যখন লাখো-কোটি ছাত্র-জনতা রাজপথে ছিলাম, সেই দিন প্রথমেই ইসলামী আন্দোলন ব্যানার নিয়ে আমাদের সঙ্গে রাজপথে শামিল হয়েছিল। তাই দেশ ও জাতির জন্য আপনাদের এই অবদান আমরা আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করব।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা বলেন, “আমি মনে করি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সফল হয়েছিল আমাদের দুই সহস্রাধিক ছাত্র-জনতার শহীদ হওয়ার পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনসহ যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল, তাদের জন্য। তাই আগামী দিনেও দেশের মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে রাজপথে আমাদের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, সেটি অব্যাহত থাকবে।”
এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব আশরাফুল আলম, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্যসচিব ফয়সাল মাহমুদ, কেন্দ্রীয় সংগঠক ও ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান, কেন্দ্রীয় সদস্য হামজা মাহবুব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশীদ, ছাত্রনেতা আবদুল কাদের প্রমুখ।
গত বুধবার বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই দরবার শরিফে বার্ষিক মাহফিল শুরু হয়। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লঞ্চ ও বাসে সমবেত হয়েছেন হাজার হাজার মুসল্লি। মাহফিল শেষ হবে আগামী শনিবার সকালে। ওই দিন আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।






