টানা তিন বিশ্বকাপে অনুপস্থিত ইতালি! চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য এ নিষ্ঠুর সত্য। ২০২৬ বিশ্বকাপেও নীল জার্সির দলকে দেখা যাবে না।
উত্তর আমেরিকা-মেক্সিকো যাত্রার টিকিট কাটতে ব্যর্থ হওয়ায় ইতালিয়ান ফুটবল টালমাটাল। এই অবিশ্বাস্য ব্যর্থতায় ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি) প্রধান গাব্রিয়েল গ্রাভিনার পদত্যাগ দাবি করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে আজ্জুরিরা প্লে-অফ থেকে বিদায় নেয়। এর আগে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও দর্শক হয়ে ছিলেন তারা। এই হ্যাটট্রিক ব্যর্থতার পর এক বিবৃতিতে ক্রীড়ামন্ত্রী আবোদি বলেন, “ইতালিয়ান ফুটবলকে একদম গোড়া থেকে নতুন করে গড়তে হবে। আর সেই সংস্কার শুরু হতে হবে ফেডারেশনের শীর্ষ পর্যায় থেকে।”
পদত্যাগের চাপ সত্ত্বেও গ্রাভিনা এখনই সরছেন না। ২০১৮ সালে কার্লো তাভেচ্চিওর বিদায়ের পর দায়িত্ব গ্রহণকারী এই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। তবে আগামী সপ্তাহে বোর্ড সভায় তাঁর ভাগ্যের সিদ্ধান্ত হবে। আপাতত পরিস্থিতি সামলাতে বৃহস্পতিবার বিকেলে পেশাদার লিগের তিন বিভাগ, খেলোয়াড় ও রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করছেন তিনি।
মাঠের পরাজয়ের ক্ষোভ ফেডারেশনের সদর দপ্তরে গিয়ে পড়েছে। রোমে এফআইজিসি ভবনের সামনে বিক্ষুব্ধ সমর্থকেরা ডিম ছুড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ফুটবলারদের ব্যর্থতার দায় এখন বড় কর্তাদের কাঁধে।
পাল্টা আক্রমণে গ্রাভিনাও পিছপা হয়ননি। হারের পর গণমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, রাষ্ট্র ফুটবলের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। অন্যান্য খেলার অ্যাথলেটদের সরকারি চাকরির সুযোগকে খোঁচা দিয়ে সেগুলোকে ‘রাষ্ট্রীয় খেলা’ বা ‘অপেশাদার’ বলে মন্তব্য করেন। গ্রাভিনা দাবি করেন, “ইতালিয়ান ফুটবল গভীর সংকটে। এর জন্য শুধু ফেডারেশন নয়, রাজনীতিবিদদেরও ভাবতে হবে, যাঁরা শুধু পদত্যাগই চাইতে জানেন।”
গ্রাভিনার এই মন্তব্য ক্রীড়াঙ্গনে আগুনে ঘি ঢেলেছে। ইয়ানিক সিনারের মতো টেনিস তারকা কিংবা প্যারিস অলিম্পিকে ৪০টি পদক জয়ী অন্যান্য শাখার অ্যাথলেটদের প্রতি এমন তুচ্ছতা ভালো নেননি ক্রীড়ামন্ত্রী। আবোদি মনে করিয়ে দিয়েছেন, নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে অন্য খেলাকে ছোট করা বড় ভুল। শীতকালীন অলিম্পিকে দুই সোনাজয়ী স্পিড স্কেটার ফ্রান্সেস্কা ললোব্রিজিদা ইনস্টাগ্রামে গ্রাভিনাকে খোঁচা দিয়ে লিখেছেন, “হ্যাঁ, আমি তো একজন অপেশাদার!”






