আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার জন্মের সেই সাধারণ ঘরে এখন প্রতি সপ্তাহে শত শত মানুষের লম্বা লাইন পড়ে। কিন্তু এই ভিড় তার একনজর দর্শনের জন্য নয়, বরং প্লাস্টিকের পাত্র নিয়ে একবেলা খাবার পাওয়ার আশায় দাঁড়িয়ে থাকা ক্ষুধার্ত মানুষের।

বুয়েনস এইরেসের শহরতলির ভিলা ফিওরিতো এলাকাটি হতদরিদ্র। এখানেই ম্যারাডোনার সেই স্মৃতিময় আদি বাড়ি। ২০২০ সালে তার মৃত্যুর পর বাড়িটি আর তার পরিবারের মালিকানায় নেই।

এক মাস ধরে বর্তমান মালিক বাড়ির উঠোনে একদল স্বেচ্ছাসেবককে জায়গা করে দিয়েছেন। তারা এখানে লঙ্গরখানা চালু করেছেন এবং প্রতিবেশীদের জন্য রান্নাবান্না চলছে।

গত বৃহস্পতিবার সেখানে মারিয়া তোরেস নামের এক নারীকে দেখা যায় দুটি বড় হাঁড়িতে স্টু নাড়তে। পাশে অন্য স্বেচ্ছাসেবকরা কেউ আলু ছিলছেন, কেউ মুরগির মাংস কাটছেন। বাড়ির সামনের দেওয়ালে আঁকা ম্যারাডোনার ম্যুরালের পাশে লেখা—‘ঈশ্বরের ঘর’।

আর্জেন্টিনায় দারিদ্র্যের হার কমতে শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে দারিদ্র্যের হার ছিল ৫২.৯ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে নেমে এসেছে ২৮ দশমিক ২ শতাংশে। প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এই পরিবর্তন শুরু হয়েছে।

ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আর্জেন্টিনার সমাজবিজ্ঞানী এদুয়ার্দো দোনজা বলেছেন, দারিদ্র্য বিমোচনে এটি একটি ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য’। তবে তাঁর মতে, আর্জেন্টিনার এখন কৃষির মতো পুঁজি-নিবিড় খাতের পরিবর্তে খনির মতো শ্রম নিবিড় খাতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানো প্রয়োজন।

মুদ্রাস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায় দারিদ্র্যের হারও হ্রাস পেয়েছে। মিলেই ক্ষমতায় আসার সময় মুদ্রাস্ফীতি ছিল দুই অঙ্কের ঘরে, যা গত ফেব্রুয়ারিতে নেমে এসেছে ২ দশমিক ৯ শতাংশে।

তবে মুদ্রাস্ফীতি কমলেও মিলেইর কঠোর ব্যয় সংকোচন নীতির ফলে সরকারি কর্মসংস্থান কমেছে। পরিবহন ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমিয়ে দেওয়ায় অনেক মানুষ ক্রয়ক্ষমতা হারিয়েছেন।

ভিলা ফিওরিতোর এই অস্থায়ী লঙ্গরখানা পরিচালনা করছেন যাজক লিওনার্দো ফ্যাবিয়ান আলভারেজ। তিনি জানান, ছোট ছোট কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভিলা ফিওরিতোসহ অন্যান্য এলাকায় খাবারের চাহিদা বেড়েছে। মিলেইর আমলের সহজ আমদানি নীতি ও শক্তিশালী পেসোর কারণে বিদেশি সস্তা পণ্য আসায় স্থানীয় কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

আলভারেজ বলেন, ‘মানুষ স্পষ্টতই কাজ হারিয়েছেন। তাঁরা এখানে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার সংগ্রহ করছেন। আমরা যা দিচ্ছি, তা-ই তাঁরা নিয়ে যাচ্ছেন।’

২০২১ সালে আর্জেন্টিনা সরকার ম্যারাডোনার এই জন্মভূমিকে ‘জাতীয় ঐতিহাসিক স্থান’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।