জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটের পর বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামী আমির শফিকুর রহমান জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ ১১টি দলের নেতৃত্বে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু এখানে আমরা জনগণের সংস্কারের দাবি আদায় করতে পারলাম না, এখন জনগণের দাবি আমরা জনগণের কাছেই নিয়ে যাব।’
সাংবাদিকদের সামনে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কি আন্দোলন গড়ে তুলব? নিঃসন্দেহে। আন্দোলন ছাড়া আমাদের করার আর পথ কী আছে! আন্দোলন আমরা করব, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই করব। আমরা ১১টি দল দ্রুতই একত্রে বসছি। দ্রুতই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
আজ বুধবার বিকেলে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটের পর অধিবেশনকক্ষের বাইরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। তাঁর পাশে ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
প্রথমে সংসদ থেকে ওয়াকআউটের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের কোনো প্রতিকার না পাওয়া এবং তাঁদের প্রস্তাব চাপা দেওয়ার জন্য আরেকটি প্রস্তাব আনার প্রতিবাদে তারা ওয়াকআউট করেছেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এর আগে বাংলাদেশে তিনটা গণভোট হয়েছে। কোনো গণভোট এভাবে শেষ হয়ে যায়নি। তিনটাতেই জনগণের দেওয়া রায় অনুযায়ী জনগণ পরবর্তী সুযোগ পেয়েছে। এই প্রথম যেটাতে সরকারি দল ও বিরোধী দল সবাই একমত ছিলাম, সবাই এর পক্ষে ভোট চাইলাম; সেটাকে অগ্রাহ্য ও অমান্য করা হলো এবং এটাকে শেষ করে দেওয়া হলো। কার্যত জনগণের চূড়ান্ত অভিপ্রায়কে লঙ্ঘন করা হলো। আমরা অবস্থা মেনে নিইনি। জনগণের অভিপ্রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা ওয়াকআউট করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু হাউসের ভেতরে জনগণের এই অভিপ্রায়ের বিষয়টা সেভাবে সম্মানিত ও গৃহীত হলো না, আমাদের জন্য এখন পথ একটাই—আবার জনগণের কাছে ফিরে যেতে হবে। যে জনগণ এই রায় দিয়েছিল, আমরা এখন সেই জনগণের কাছেই ফিরে যাব, ইনশা আল্লাহ। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণভোটের দাবি কীভাবে আদায় করা যায়, সেই কার্যক্রম আমরা গ্রহণ করব।’
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি কোনো দল বা ব্যক্তির স্বার্থ নয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণের ওপর দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার জায়গাগুলো বন্ধ হোক, এটাই আমরা চেয়েছিলাম। জুলাই সনদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে বর্তমান সরকারি দলের নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) আছে। তারা কী করবেন, এটা তাদের ব্যাপার। কিন্তু জনগণের সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা, দেশের রাজনৈতিক চরিত্র পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাটাকে নিয়মমাফিক চলতে দেওয়া হলো না।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ১১টি দল নির্বাচনের আগে বিভিন্ন দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আমাদের প্রধান দাবি ছিল—সুশাসন ও ন্যায়বিচার এবং দুর্নীতি–দুঃশাসনবিরোধী অবস্থান। যেহেতু এখানে আমরা পারলাম না আদায় করতে, এখন জনগণের দাবি আমরা জনগণের কাছেই নিয়ে যাব। ইনশা আল্লাহ, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’
‘ওয়াকআউট করেছি, গিভ আপ নয়’
বিরোধীদলীয় সদস্যরা সংসদ থেকে পদত্যাগ করবেন কি না—এমন প্রশ্নে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সংসদে থাকব না, এটা বলিনি। আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি, সংসদকে গিভ আপ করিনি। আমরা তো সংসদের অংশ। আমরা তো সংসদ সদস্য। জাতির দেওয়া এই দায়িত্ব আমাদের পালন করতে হবে।’
বিরোধী দলের পরবর্তী অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখবেন। কালকে আমাদের ভূমিকা কী হবে, রাত পোহালে দেখবেন, ইনশা আল্লাহ। কালকেই দেখবেন যে আমরা কী করি।’ সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার চান বলেও তিনি মন্তব্য করেন।






