আবার সেই চেনা হতাশা। নীল জার্সির দেশ ইতালি টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপে টিকিট পায়নি। চারবারের চ্যাম্পিয়ন এই দলটি মঙ্গলবার রাতে বাছাইপর্বের ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-১ গোলের হার খায়। এই পরাজয় যেন ইতালিকে অন্ধকারের গভীরে ঠেলে দিয়েছে।
২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি এখন দূরের অতীত। তারপর ২০ বছর কেটে গেছে। এই দুই দশকে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির একটাই জয়। ২০৩০ সালের আগে তাদের বিশ্বকাপ নিয়ে কথা বলার মতো অবস্থা নেই। দেশের গণমাধ্যমগুলোতে এখন মাতম, আগ্নেয়গিরির লাভার মতো ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
ইতালির শীর্ষ ক্রীড়া দৈনিক গাজেত্তা দেলো স্পোর্ত শিরোনাম দিয়েছে—‘তুত্তি আ কাসা’। যার অর্থ, ‘সবাই বাড়ি চলো’। তাদের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, “এটা শুধু স্বপ্নভঙ্গ নয়, এটা এক মহাপ্রলয়। আগের দুবারের চেয়েও এবারের আঘাত অনেক বেশি গভীর। একটা পুরো প্রজন্ম বেড়ে উঠছে যারা কোনো দিন বিশ্বকাপ আসরে ইতালিকে দেখেনি। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়াটাই এখন আমাদের জন্য স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
আরেক সংবাদপত্র তুত্তোস্পোর্ত আমূল পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে। তাদের শিরোনাম—‘ভিয়া তুত্তি’, অর্থাৎ ‘সবাই বিদায় হও’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে সর্বস্তরে পরিবর্তন আসা উচিত। রিসেট বা নতুন করে শুরু করাটাই এখন একমাত্র ওষুধ।”
কোরিয়েরে দেলো স্পোর্ত এই হারকে ফুটবলের ব্যর্থতা ছাড়িয়ে পুরো ইতালীয় ব্যবস্থার ধস মনে করছে। তারা লিখেছে, “ইতালির ফুটবল প্রকল্পের ভিত্তিটাই নড়বড়ে হয়ে গেছে। পুরো ব্যবস্থাই আর কাজ করছে না। এই হার ইতালীয় ফুটবলের সাংগঠনিক ও সামাজিক দৈন্যকে নগ্ন করে দিয়েছে।”
অন্যদিকে কোরিয়েরে দেলা সেরা বলছে, “এবার আর আট বা চার বছর আগের মতো রাগ বা বিস্ময় নেই, আছে কেবল গভীর বিষাদ। গাত্তুসোর চোখের পানি যেন গোটা দেশের হাহাকার।” পত্রিকাটি আক্ষেপ করে লিখেছে, “সিনারের টেনিস বা আন্তোনেল্লির ফর্মুলা ওয়ান সাফল্য দিয়ে কি আর ফুটবল বিশ্বকাপের শূন্যতা পূরণ হয়!”
লা রিপাবলিকা এই ঘটনাকে ‘জাতীয় লজ্জা’ বলে অভিহিত করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে, “কোনো পরিকল্পনার অভাব নয়, বরং পরিকল্পনার সম্পূর্ণ অনুপস্থিতির কারণে এটা ঘটেছে। মধ্যম মানের ফুটবল খেলাটাই এখন আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বার্লিন জয়ের ২০ বছর পর গাত্তুসোর দল যা উপহার দিল, তা স্রেফ অপমান।”
এল মেসেজেরো শিরোনাম করেছে, ‘নরকে ইতালি’। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ছোট্ট বসনিয়া যখন উৎসবে মাতোয়ারা, ইতালি তখন ডুবে নরকের যন্ত্রণায়। টানা তিনবার দর্শক হয়ে বিশ্বকাপ দেখা এই দেশটির জন্য যেন এক সপাটে চড়। এক অন্তহীন দুঃস্বপ্নে নিমজ্জিত আজ্জুরিরা।”
লা স্টাম্পা বলেছে, “বিপর্যয়! বার্লিনের সেই রাতের পর থেকে একের পর এক ধাক্কা। ইতালির ব্যর্থতা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এক পরিচয়হীন দলে পরিণত হয়েছে তারা।”
দেশের জনপ্রিয় ফুটবল ওয়েবসাইট কালচিওমেরকাতো লিখেছে, “আবার বিদায় বিশ্বকাপ। সেই তরুণদের কথা ভাবুন, যারা কখনো ইতালিকে বিশ্বকাপে দেখেনি। আবার সেই প্রবীণদের কথাও ভাবুন, যাঁরা হয়তো আর কখনো আজ্জুরিদের বিশ্বমঞ্চে দেখবেন না। সবাই ভুল করেছে। কোনো ব্যতিক্রম নেই। এই ভুলের দায়ে গণপদত্যাগ হওয়া উচিত।”






