চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কাঞ্চনা এলাকায় গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে ছাত্রদলের এক নেতার বাড়িতে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। কাঞ্চনা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু তাহেরের নেতৃত্বে জামায়াত–শিবিরের নেতা–কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদল নেতা মো. মহসিন। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কাঞ্চনা ইউনিয়নের কবির বাড়ি এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
মো. মহসিন জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তাঁকে না পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীরা স্থানীয় দুই ছাত্রদল নেতার ওপর হামলা করে। মুক্তকণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘কাঞ্চনা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু তাহেরের নেতৃত্বে জামায়াত–শিবিরের কর্মীরা আমার বাড়ি লক্ষ্য করে দফায় দফায় গুলি চালান। আমাকে না পেয়ে তাঁরা আমার সহযোগীদের ওপর হামলা করেন। তাঁদের হামলায় ছাত্রদলের একটি ওয়ার্ড শাখার সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ রাকিব ও ইউনিয়ন শাখার সাবেক সভাপতি মো. শফিক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাকিব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং শফিক এক পল্লিচিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।’
হামলার কারণ জানতে চাইলে মো. মহসিন বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী প্রত্যাশিত ভোট পাননি। এতে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাচনের পর থেকেই স্থানীয় বিএনপি নেতা–কর্মীদের বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।’
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাঞ্চনা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু তাহের। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে দল আমাকে প্রার্থী করতে পারে, এমন সম্ভাবনা থেকেই বিএনপির একটি অংশের নেতা–কর্মীরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগ করছেন। অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। তাঁরা নিজেরাই বাজি ফাটিয়ে জামায়াত–শিবিরের নেতা–কর্মীদের ওপর গুলির দায় চাপাচ্ছেন।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ফরহাদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, মধ্যরাতে বিকট শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এটা গুলি বা আতশবাজির শব্দ হতে পারে। তবে কারা, কী কারণে হামলা করেছে, তা নিশ্চিত নয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সে কারণেও হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক জানান, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’






