ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ৮ ঘণ্টার ব্যবধানে আলাদা আলাদা দুর্ঘটনায় সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দাউদকান্দি, বুড়িচং, চান্দিনা ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে।

দাউদকান্দি ও বুড়িচংয়ের দুটি ঘটনায় দুজন করে মোট চারজন নিহত হয়েছেন। চৌদ্দগ্রামে দুটি ঘটনায় দুজন এবং চান্দিনায় একটি ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকচালক, দুজন অটোরিকশার চালক, একজন স্কুলছাত্র এবং একজন পথচারী। হাইওয়ে থানা-পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মহাসড়কের দাউদকান্দির বারপাড়া এলাকায় নিহত দুজন হলেন দাউদকান্দি উপজেলার সরকারপুর গ্রামের আবদুল বারেক (৫৩) ও মোস্তফা (৫২)। তাঁরা অটোরিকশার চালক ছিলেন। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, আজ ভোর চারটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে উপজেলার বারপাড়া এলাকায় কারী সাহেবের মাজারের বিপরীত পাশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে পেছন থেকে অজ্ঞাত একটি গাড়ি ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে যাত্রী আবদুল বারেক ও মোস্তফা নিহত হন। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালক আহত হয়েছেন।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।" এ ঘটনায় দাউদকান্দি থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া অজ্ঞাত গাড়িটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

কাছাকাছি সময় আজ ভোরে মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যানের পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। নিহত দুজন কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকচালক বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশ জানায়, আজ ভোর চারটার দিকে মহাসড়কের নিমসার বাজার এলাকায় এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানের পেছনে একটি মালবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে দুটি গাড়ির চালক নিহত হন।

নিহত দুজন হলেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার লালপুর এলাকার প্রয়াত হানিফ মিয়ার ছেলে কাভার্ড ভ্যানের চালক জহিরুল ইসলাম (২৭) এবং মেহেরপুর সদরের কেশবপুর এলাকার খোদা বক্সের ছেলে ট্রাকচালক সোহেল রানা (৩৫)। এতে আহত হয়েছেন গাড়ি দুটির চালকের সহকারী। আজ দুপুরে ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি আবদুল মমিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে।

এদিকে আজ সকাল ৯টার দিকে মহাসড়কের কাঠেরপুল এলাকায় সড়ক পারাপারের সময় লরিচাপায় এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। কোচিং সেন্টার থেকে প্রাইভেট পড়ে বাসায় ফেরার পথে চট্টগ্রামগামী লেনে একটি লরি তাকে চাপা দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে বুড়িচংয়ের কাবিলা ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ইবনে তাইম (১৫) চান্দিনা পৌরসভার রাড়িরচর এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় বড় গোবিন্দপুর আলী মিয়া ভূঁইয়া উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ত।

এ প্রসঙ্গে ওসি আবদুল মমিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা পৌঁছার আগেই শিক্ষার্থীর স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে চলে যান। তাকে চাপা দেওয়া লরিটি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় সেটি জব্দ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে পুলিশ খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

আজ ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গাংরা এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান বিকল হলে সেটির চালক সড়কে নেমে গাড়িটির সমস্যা দেখার চেষ্টা করেন। এমন সময় চট্টগ্রামমুখী লেনে আরেকটি কাভার্ড ভ্যান পেছন থেকে দ্রুত গতিতে এসে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে বিকল হওয়া কাভার্ড ভ্যানের চালক নিহত হন। নিহত চালকের নাম ওমর ফারুক (৩৯)। তিনি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর গ্রামের বাসিন্দা।

দুপুরে মিয়ার বাজার হাইওয়ে থানা–পুলিশের ওসি সাহাব উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ঘটনার পর দুটি কাভার্ড ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে চাপা দেওয়া গাড়িটির চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

এদিকে আজ দুপুর ১২টার দিকে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় সোনালী ব্যাংকের সামনে দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যানের চাপায় এক বৃদ্ধা ঘটনাস্থলে নিহত হন। নিহত হাজেরা বেগমের (৭০) বাড়ি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে। তিনি মহাসড়ক পারাপারের সময় কাভার্ড ভ্যানের নিচে চাপা পড়েন বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। ওসি সাহাব উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যান এবং এর চালককে আটক করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।