মেক্সিকোর গুয়াদালুপ স্টেডিয়ামে শেষ হুইল বাজতেই আবেগের সঞ্চার ঘটল। ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরার উল্লাসে ইরাকের খেলোয়াড়রা একে অপরকে জড়িয়ে ধরলেন, অন্যদিকে কাছাকাছি গিয়ে সুযোগ হাতছাড়া করায় বলিভিয়ার খেলোয়াড়রা কান্নায় ভেঙে পড়লেন। পোস্টের নিচে বসে বলিভিয়ান গোলরক্ষক গিলের্মো ভিসকারার কান্নার দৃশ্য যে কারও হৃদয় স্পর্শ করবে। ফুটবল তো এমনই!

কারও কান্নার বিপরীতে অন্যের উচ্ছ্বাস। আজ শেষ হাসিটা ইরাকেরই হয়েছে। বিশ্বকাপের আন্তমহাদেশীয় প্লে–অফ ফাইনালে বলিভিয়াকে ২–১ গোলে হারিয়ে এশিয়ান দেশটি চূড়ান্ত পর্বের টিকিট কেটেছে। এর ফলে ১৯৮৬ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে তারা।

সবুজ পাহাড়ি অরণ্যের মাঝে অবস্থিত ভেন্যুতে ম্যাচ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হয়। বলিভিয়া আক্রমণ ও বল রাখায় এগিয়ে থাকলেও কার্যকরীতায় ইরাকই ছিল সামনে। বিশ্বকাপে ফিরতে পারল না ইতালি, তুরস্কের ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান।

ম্যাচের ৯ মিনিটে বক্সের বাইরে ফ্রি–কিক পেয়ে ইরাকের আল আমারি শট নেন, কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে ঠেকিয়ে বলিভিয়াকে বাঁচান গোলরক্ষক গিলের্মো ভিসকারা। পরের মিনিটেই ইরাক এগিয়ে যায়। আল–আমারির কর্নারে আল–হামাদির দুর্দান্ত হেডারে গোল হয়।

পিছিয়ে পড়ে বলিভিয়া মরিয়া হয়ে ওঠে। ইরাককে চাপে ফেলে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করে তারা। একাধিকবার কাছাকাছি গেলেও ৩৮ মিনিটে মইসেস পানিয়াগুয়ার গোল করে সমতা ফেরায়। প্রথমার্ধ সমতায় শেষ হয়।

বিরতির পর দুই দলই নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। পাল্টাপাল্টি আক্রমণের মধ্যে ইরাকই গোল করে। বদলি খেলোয়াড় মার্কো ফারজির পাসে আইমেন হুসেইনের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ইরাক আবার এগিয়ে যায়। জাম্বিয়ার জালে পাঁচ গোল আর্জেন্টিনার।

পিছিয়ে থাকলেও বলিভিয়া শেষ পর্যন্ত লড়াই করে। বিশেষ করে শেষ মিনিটগুলোতে ইরাককে কোণঠাসা করে আক্রমণ চালিয়ে যায়। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোল আসে না। ২-১ গোলের জয়ে ইরাক ৪৮তম দল হিসেবে বিশ্বকাপের টিকিট কাটে।