বয়স ২২। ডানহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান এবং বাঁহাতি মিডিয়াম পেসার। নাম মোহাম্মদ আব্বাস। বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে দলে স্থান পেয়েছেন এই অলরাউন্ডার। কে এই মুহাম্মদ আব্বাস?

আব্বাস ক্রিকেটের ক্ষেত্রে একেবারে নতুন নন। গত বছর মার্চ–এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক হয়। অভিষেক ম্যাচেই ২৪ বলে ফিফটি করে চমক প্রকাশ করেন। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৪১ এবং পরবর্তী ম্যাচে ১১ রান করেন। এই সিরিজের পর নিউজিল্যান্ডের হয়ে আর খেলেননি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেককারী আব্বাসের জন্মও পাকিস্তানের লাহোরে। তাঁর বাবা আজহার আব্বাস পাকিস্তানে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন। পরে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমানোর পর ওয়েলিংটন ও অকল্যান্ডের হয়েও খেলেছেন।

মোটামুটি তাঁর অভিজ্ঞতা ৪৫টি প্রথম শ্রেণির এবং ২২টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচের। বর্তমানে তিনি নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া দল ওয়েলিংটন ফায়ারবার্ডসের বোলিং কোচ।

আব্বাসের বেড়ে ওঠা অকল্যান্ডে। কৈশোরে সেখানে ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবলও চুটিয়ে খেলেছেন স্কুল ও ক্লাব পর্যায়ে। তবে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ডাক পাওয়ার পর একটি খেলা বেছে নিতে হয়। সেটা ক্রিকেট, তা স্পষ্ট।

১৮ বছর বয়সে ওয়েলিংটন থেকে ক্রিকেট খেলার সরাসরি প্রস্তাব পান আব্বাস। ছেলের কথা চিন্তা করে বাবাও তখন ওয়েলিংটনে চলে আসেন এবং সেখানকার সহকারী কোচ হন।

আব্বাসকে গড়ে তোলায় নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ভূমিকা নিয়ে অভিষেকের সময় বলেছিলেন বাবা আজহার আব্বাস, “ক্রিকেট নিউজিল্যান্ড আব্বাসকে যেভাবে আগলে রেখেছে এবং তার জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে, তা অবিশ্বাস্য। আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই আব্বাস তাদের ডেভেলপমেন্ট স্কোয়াডে সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল।”

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ২৯টি ম্যাচ খেলেছেন আব্বাস। ৩০.০৭ গড়ে ৭৮২ রান করেছেন এবং ৯ উইকেট নিয়েছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৭টি ম্যাচে ৬ ফিফটি ও ২ সেঞ্চুরির সঙ্গে ৩১.৬২ গড়ে রান করেছেন এবং ১৯ উইকেট নিয়েছেন। ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলার কথা ছিল আব্বাসের। কিন্তু কোয়ারেন্টিন বাধ্যবাধকতায় নিউজিল্যান্ড শেষ মুহূর্তে টুর্নামেন্ট থেকে প্রত্যাহার করে।

আগামী ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশে পৌঁছাবে নিউজিল্যান্ড দল। এটি সম্পূর্ণ সাদা বলের সফর—৩টি করে ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি। ওয়ানডে দলে থাকলেও টি-টুয়েন্টি দলে আব্বাসের জায়গা হয়নি।