পটুয়াখালীর বাউফলে চাঁদার দাবিতে এক কৃষককে মারধরের ঘটনায় স্থানীয় লোকজন তিনজনকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজনের মৃত্যু হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাউফলের নদীবেষ্টিত চরওয়াডেল গ্রামে ঘটে এ ঘটনা।

আহত কৃষক মো. ফিরোজ গাজী (৪০) বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল গ্রামের বাসিন্দা। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পিটুনিতে নিহত উজ্জল কর্মকার (৪০) উপজেলার কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আহত কৃষকের স্বজনেরা জানান, ফিরোজ তরমুজ চাষ করেন। বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছেন উপজেলার বড় ডালিমা গ্রামের মিজানুর রহমান (৪৫)। আজ দুপুরে ফিরোজ তাঁর খেত থেকে তরমুজ ট্রলারে তুলছিলেন। বেলা তিনটার দিকে মিজানুরের নেতৃত্বে ৮-১০ জন রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে তরমুজ তুলতে বাধা দেন। মিজানুর দাবি করেন, ওই জমি তাঁর। তিনি ফিরোজকে বলেন, দুই লাখ টাকা না দিয়ে খেত থেকে তরমুজ তোলা যাবে না।

টাকা দেওয়ার অস্বীকৃতি জানালে ফিরোজকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। ফিরোজের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন মিজানুর ও তাঁর সঙ্গীদের ধাওয়া দেন। তাঁদের মধ্যে মিজানুর, উজ্জল ও শামীমকে আটক করে পিটুনি দিয়ে চন্দ্রদ্বীপের অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে সোপর্দ করা হয়। পরে তাঁদের ট্রলারে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে উজ্জলের মৃত্যু হয়। মিজানুর সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। শামীমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা নাঈম শাকির মুক্তকণ্ঠকে বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই উজ্জলের মৃত্যু হয়েছে।

মিজানুর রহমান বলেন, চাঁদা দাবির অভিযোগ সত্য নয়। ওই জমি তাঁদের। জমির ফয়সালা করে তরমুজ কাটতে বলায় কৃষক ফিরোজ ও তাঁর লোকজন তাঁদের ওপর হামলা করে পিটিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন এবং উজ্জলকে হত্যা করেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, কৃষককে মারধরের ঘটনা কেন্দ্র করে ওই ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।