মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারকেও প্রভাবিত করেছে। এক বছর ধরে চলা দুর্বলতা কাটিয়ে স্থিতিশীলতার আশা জাগছিল, কিন্তু নতুন যুদ্ধ এই সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

তেলের দাম ও সরবরাহ–সংকটের প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে জট পড়ায় তেলের দাম বেড়েছে। এতে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং জ্বালানির খরচ বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বেড়েছে। এই পরিস্থিতি ব্যবসা ও বিনিয়োগে চাপ সৃষ্টি করছে।

ছাঁটাইয়ের শঙ্কা বাড়ছে

অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম যদি দীর্ঘদিন ১০০ ডলারের ওপরে থাকে, তাহলে তা বড় ধরনের অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে। ফলে কোম্পানিগুলো আবার ছাঁটাই শুরু করতে পারে।

বর্তমানে শ্রমবাজারে স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে—নিয়োগ কমছে, তবে ছাঁটাইও সীমিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিশ্চয়তার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগ পরিকল্পনা বাতিল না করে স্থগিত রাখছে।

মন্দার ঝুঁকি ও ধীরগতির চাকরি বৃদ্ধি

বিশ্লেষকদের মতে, বছরের প্রথমার্ধে চাকরির বৃদ্ধি খুবই সীমিত থাকবে। একইসঙ্গে বেকারত্বের হার ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। মন্দার সম্ভাবনা প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে।

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট চাকরি সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১ লাখ ১৬ হাজার, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কমগুলোর একটি। আগের বছরগুলোতে মাসিক গড় চাকরি বৃদ্ধি ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি।

মূল্যস্ফীতি কমার সম্ভাবনা, সুদের হার হ্রাস এবং নতুন করনীতির কারণে চলতি বছর শ্রমবাজারে কিছুটা উন্নতির আশা জাগছিল। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কমবে বলেও ধারণা ছিল।

‘স্থিতিশীল কিন্তু স্থবির’ পরিস্থিতি

কিন্তু নতুন সংঘাত এই আশাকে ক্ষীণ করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে বড় উন্নতি বা অবনতির কোনো লক্ষণ নেই—পরিস্থিতি ‘স্থিতিশীল কিন্তু স্থবির’ অবস্থায় রয়েছে।