কারাবন্দী সাংবাদিক শওকত মাহমুদকে সন্ত্রাসবিরোধী আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ‘মঞ্চ ৭১’ নামক সংগঠনের আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠককে কেন্দ্র করে করা এই মামলায় আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলমসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এখন শওকত মাহমুদকে এই মামলায় ‘তদন্তে প্রাপ্ত’ আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আজ সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট) জুয়েল রানা শাহবাগ থানায় করা এই মামলায় শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার শওকত মাহমুদ। পরে গত ৭ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব শওকত মাহমুদকে রাজধানীর মালিবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আদালত সূত্র জানায়, আজ শওকত মাহমুদকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের পরিদর্শক মো. আখতার মোরশেদ তাঁকে শাহবাগ থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
গ্রেপ্তার আবেদনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র ও বিকৃতি রোধের লক্ষ্যে গত বছরের ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। ২৮ আগস্ট সংগঠনটি সকাল ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের কার্যক্রম পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে তাঁরা প্রকৃতপক্ষে দেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। মামলার এজাহারভুক্ত ১৬ আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৭০ থেকে ৮০ জন ব্যক্তি ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামিরা ‘মঞ্চ ৭১’–এর ব্যানারে সমবেত হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে শওকত মাহমুদের জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য–প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি তাঁর দলীয় লোকজন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক সভা করেছেন বলেও জানা যায়। এ অবস্থায় মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।






