আধুনিক ফুটবলে ধৈর্যের অভাব স্পষ্ট। বিপুল অর্থের চাপ এবং উচ্চ প্রত্যাশার মুখে ব্যর্থতা মেনে নেওয়া যায় না। কী কিংবদন্তি হোন না কেন বা পরিস্থিতি যাই হোক, প্রত্যাশা পূরণ না হলে কোচের বিদায় নিশ্চিত।
টটেনহামের ইগর তুদোরের কাহিনি এর জ্বলন্ত উদাহরণ। মাত্র ৪৪ দিন পর বরখাস্ত হয়ে তিনি প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে কম সময়ে চাকরি হারানো ১০ কোচের তালিকায় স্থান পান।
চলুন দেখা যাক, প্রিমিয়ার লিগে চাকরি ১০০ দিন হওয়ার আগেই বরখাস্ত হয়েছেন এমন কোচদের তালিকায় আর কারা আছেন।
রালফ হাসেনহাটলের জায়গায় ২০২২ সালের নভেম্বরে সাউথাম্পটনের দায়িত্ব নেন নাথান জোন্স। ওয়েলসের এই কোচ আগে ২০১৯ সালে স্টোক সিটিতে ১০ মাস কষ্ট পার করেছেন। সাউথাম্পটনেও তাঁর ভাগ্যে হাসি ফোটেনি। ১৪ ম্যাচে ৯ হারের পর বরখাস্ত হন। একই মৌসুমে তৃতীয়বার কোচ খুঁজতে হয় সাউথাম্পটনকে।
মিক ম্যাকার্থির দীর্ঘদিনের সহকারী ছিলেন কনর। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ম্যাকার্থি বরখাস্ত হলে উলভস কনরকে দায়িত্ব দেয়। তখন দল পয়েন্ট তালিকায় ১৮ নম্বরে। কনরের অধীনে টানা সাত ম্যাচ হারে অবনমন নিশ্চিত হয়। পুরো মৌসুমে মাত্র ২৫ পয়েন্ট জোটে। ২০১১-১২ মৌসুমের বাকি অংশ টিকে থাকলেও পরের মৌসুমে রাখা হয়নি তাঁকে।
পোজ্জো পরিবারের অধীনে ওয়াটফোর্ডে কোচ বদলের চক্র অবিরাম। সানচেজ ফ্লোরেস এতে দুবার জড়ান। ২০১৫-১৬ মৌসুমে ৪৪ ম্যাচের জন্য একবার; তিন বছর পর ফিরে এসে মাত্র এক ডজন ম্যাচে, যেখানে জয় মাত্র দুটি।
প্রিমিয়ার লিগে কোচিংয়ের প্রথম আমেরিকান। ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত টিকে ছিলেন। ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে থাকেন। ১১ ম্যাচে মাত্র ৮ পয়েন্ট পান। দল তখন ১৯ নম্বরে। পরে পল ক্লেমেন্ট সোয়ানসিকে রেলিগেশন থেকে বাঁচান।
সাবেক ডাচ ডিফেন্ডার ২০১৭ সালের গ্রীষ্মে প্যালেসের দায়িত্ব নেন। চার ম্যাচে একটিতেও জয় নেই, দল কোনো গোলও করেনি। ফলে ৭৭ দিন পর বিদায়। প্রিমিয়ার লিগে স্থায়ী কোচ হিসেবে সবচেয়ে কম ম্যাচে ছাঁটাইয়ের রেকর্ড তাঁর দখলে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ১২ বছর সহকারী কোচের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০১৩-১৪ মৌসুমে ফুলহামে যোগ দেন এই ডাচ কোচ। ১৩ ম্যাচে ৯টিতে হারে দল তলানিতে নামে। মৌসুম শেষের আগে চাকরি যায়।
২০২২-২৩ মৌসুমের মাঝে লিডসের দায়িত্ব নেন স্প্যানিশ কোচ গ্রাসিয়া। ১২ ম্যাচে তিন জয়, সাত হার ও দুই ড্র। ৬৯ দিন পর ক্লাব তাঁকে সরিয়ে স্যাম অ্যালারডাইসকে আনে।
টটেনহামে ইগর তুদোরের আত্মবিশ্বাস ছিল প্রখর। ক্রোয়েশিয়ান কোচ দাবি করেন, স্পার্সকে অবনমন থেকে বাঁচাবেন। উত্তর লন্ডন ডার্বিতে বলেন, ‘রোববার আপনারা এমন কিছু দেখবেন যা আগে দেখেননি, যা মানুষ পছন্দ করবে।’
কিন্তু ঘরের মাঠে ৪-১ গোলের হার তাঁর আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়। প্রথম ম্যাচ হারার পর সুর বদলায়। দ্বিতীয় হারে দলের খুঁত খুঁজছেন। আক্রমণ, মাঝমাঠ, রক্ষণাবলীতে অজুহাত। একসময় বলেন, খেলোয়াড়দের ‘মস্তিষ্ক’ বা বুদ্ধির অভাব আছে!
তবে তুদোর নিজেও অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে এক নম্বর গোলরক্ষক গুগলিয়েলমো ভিকারিওকে বসান। বদলে আন্তোনিন কিনস্কিকে নামান, যাকে ১৭ মিনিট পর তুলতে হয়।
এসব সিদ্ধান্তে ৪৪ দিন পর (২৯ মার্চ ২০২৬) তুদোর বরখাস্ত হন। ৫ ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন।
চার্লটনে অ্যালান কার্বিশলির সহকারী হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। ২০০৬ সালে ইয়ান ডোয়ির সহকারী হিসেবে ফিরে আসেন। নভেম্বরে ডোয়ি বরখাস্ত হলে রিড প্রধান কোচ হন। ৭ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট, লিগ কাপ থেকে বিদায়—বড়দিনের আগের দিন চাকরি যায়।
গত ৯ সেপ্টেম্বর নটিংহাম ফরেস্টের কোচ হন অ্যাঞ্জে পোস্তেকোগলু। ১৮ অক্টোবর চেলসির কাছে ঘরের মাঠে ৩-০ হারে বরখাস্ত। মালিক ইভানজেলোস মারিনাকিস ম্যাচের এক ঘণ্টা পর সিদ্ধান্ত নেন। ১৯ মিনিট পর ঘোষণা দেন। এতে প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে কম সময়ে চাকরি হারানো কোচের তালিকায় নাম লেখান অস্ট্রেলিয়ান কোচ।
২০১৬ সালে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের কোচ হিসেবে ৬৭ দিন ও এক ম্যাচ টিকেছিলেন স্যাম অ্যালারডাইস। পরে প্রিমিয়ার লিগেও রেকর্ড গড়েন। ২০২৩ সালের মে মাসে লিডস অবনমন এড়াতে গ্রাসিয়াকে বরখাস্ত করে অ্যালারডাইসকে ডাকেন। চার ম্যাচে তিন হার, এক ড্র—লিডস নিচে নামে। ৩০ দিনে বিদায় নেন মোটা ক্ষতিপূরণ নিয়ে। প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে ক্ষণস্থায়ী কোচের রেকর্ড রাখেন।






