সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে শতাধিক ক্রীড়াবিদকে বেতনকাঠামোর আওতায় নিয়ে এসেছে। রোববার তেজগাঁওয়ে নিজের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এসময় ১২৯ জন খেলোয়াড়ের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন তিনি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফলতা অর্জনকারীদের বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
ক্রিকেট বোর্ড স্বনির্ভর হওয়ায় ক্রিকেটাররা এ তালিকার বাইরে। তবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, আগামী এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন খেলোয়াড়কে বেতনকাঠামোর আওতায় আনা হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আর্চারি, বক্সিং, জিমন্যাস্টিকস, ওয়েটলিফটিং, সাঁতার, প্যারা সুইমিং, প্যারা অ্যাথলেটিকস, হুইলচেয়ার বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন খেলায় বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা চমৎকার ফলাফল করছে। শুধু ক্রিকেট বা ফুটবল নয়, এই খেলাগুলোকেও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন বা ব্যায়ামের অংশ নয়; বরং আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অ্যাকাউন্ট্যান্সি, ইঞ্জিনিয়ারিং বা লিগ্যাল প্রফেশন যেমন পেশা, ঠিক একইভাবে স্পোর্টসও একটি পেশা। পৃথিবী যখন এভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, নিশ্চয়ই বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকতে পারে না; আমরা ইনশা আল্লাহ পিছিয়ে থাকব না।’
শিক্ষাকারিকুলামে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্কুলে যেমন অঙ্ক, ইংরেজি, ভূগোল ও ইতিহাস আবশ্যিক হিসেবে পড়তে হয়, আমরা চাচ্ছি, শিশু যে খেলাটিই পছন্দ করুক, সেটি তাকে খেলতে হবে। সেটাতে তাকে দক্ষ হতে হবে, নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। অর্থাৎ ইতিহাস, ভূগোল ও বিজ্ঞানের পাশাপাশি আমরা খেলাধুলাকেও আবশ্যিক করব।’
তরুণ খেলোয়াড়দের উদ্দেশে আইনস্টাইনের উক্তি স্মরণ করিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে মানুষটি কখনো পরাজিত হয়নি, সে আসলে কিছুই করেনি। তার মানে সে কোনো উদ্যোগই গ্রহণ করেনি, চেষ্টাই করেনি। আপনাকে জয়ী হতে হলে কিছু একটা করতে হবে।’
সম্প্রতি সাফ নারী ফুটবলে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রথম শিরোপা জয়ের কথা উল্লেখ করে সেই চ্যাম্পিয়নদের আবারও অভিনন্দন জানান তারেক রহমান।
বক্তৃতার শেষে খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খেলোয়াড় বন্ধুরা, আপনাদের সবার প্রতি আমার একান্ত অনুরোধ—পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন এবং হবেন না। বরং ক্রীড়ানৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধি হয়ে উঠবেন, দেশের জন্য গৌরব ও সম্মান বয়ে আনবেন।’
লাখ টাকার ভাতায় স্বস্তি, খেলোয়াড়েরা বলছেন, ‘এখন নিজেদের মধ্যেই হবে প্রতিযোগিতা’






