আফ্রিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবলের (সিএএফ) মহাসচিব ভেরন মোসেঙ্গো–ওমবা পদত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে পদমুক্ত করার দাবি উঠছিল, যা মহাদেশের ফুটবলে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আরও জোরালো হয়েছে। অবশেষে চাপের মুখে তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
পদত্যাগের ঘোষণায় মোসেঙ্গো-ওমবা বলেছেন, তিনি অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু এই বিদায় এল এমন সময়ে, যখন সংস্থার নেতৃত্ব নিয়ে আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সেনেগালের কাছ থেকে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) শিরোপা কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জন্মেছে। এছাড়া সিএএফে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবিও জোরদার হয়েছে।
এছাড়া, বাধ্যতামূলক অবসরের বয়স ৬৩ পার হওয়ার পরও তিনি মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বলে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি সিএএফের নির্বাহী কমিটির সদস্যরাও তাঁর পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানানোর এক বিবৃতিতে মোসেঙ্গো–ওমবা বলেন, “আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা, শিক্ষা দেওয়া এবং প্রত্যাশার নতুন দ্বার খোলার পর আমি সিএএফ মহাসচিবের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন ব্যক্তিগত উদ্যোগে মনোযোগ দিতে চাই।”
বিবৃতিতে তিনি সাম্প্রতিক সমালোচনার ভূমিকাও ইঙ্গিত করেছেন, “কিছু মানুষ আমার বিরুদ্ধে যে সন্দেহ ছড়াতে অনেক দূর পর্যন্ত গিয়েছিল, তা দূর করতে পেরেছি। তাই এখন আমি কোনো বাধা ছাড়াই শান্ত মনে অবসর নিতে পারছি এবং আগের চেয়ে আরও সমৃদ্ধ একটি সিএএফ রেখে যাচ্ছি।”
এদিকে, সিএএফের সভাপতি মোতসেপে বলেছেন, সেনেগালের আপিলের বিষয়ে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট (সিএএস) যে সিদ্ধান্ত দেবে, তিনি তা ‘সম্মান করবেন’ এবং বাস্তবায়ন করবেন। কায়রোতে নির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মোতসেপে বলেন, “আমি সিএএসের সিদ্ধান্ত মেনে নেব এবং তা কার্যকর করব। এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত প্রাসঙ্গিক নয়।”
গত জানুয়ারিতে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে মরক্কোকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেনেগাল। তবে ফাইনালের মাঝপথে রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে সেনেগাল দল মাঠ ছেড়ে যায় এবং ‘ম্যাচ বর্জন’ করে। এরপর সিএএফের আপিল বোর্ড সেনেগালের শিরোপা কেড়ে নিয়ে মরক্কোকে জয়ী ঘোষণা করে, যা চ্যালেঞ্জ করে সেনেগাল কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টে আপিল করেছে।






