‘আমরা এখনো কনক্লুসিভ কিছুতে পৌঁছাইনি। কনক্লুসিভ কিছু হলে আপনাদের জানিয়ে দেব।’ মোবাইলে এই দুই বাক্যে কথা শেষ করতে চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান।
গত বছরের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবির আলোচিত নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই ‘অনিয়ম’ ও ‘কারসাজি’র অভিযোগ তুলে আসছে বিভিন্ন ক্লাব এবং জেলা ও বিভাগের সংগঠকদের একাংশ। এই অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে ১১ মার্চ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার প্রধান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান।
তদন্ত চলাকালীন এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়াটা তাঁর জন্য স্বাভাবিক। তবে তিনি জানিয়েছেন, সপ্তাহখানেকের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা করছেন। কমিটি এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২৫–২৬ জন সংশ্লিষ্টের সঙ্গে কথা বলেছে। সামনের সপ্তাহখানেক তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গতকাল পর্যন্ত ছয়টি বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকার নিয়ে কমিটি দুই কেন্দ্রীয় চরিত্রের দিকে এগোচ্ছে। তারা হলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম এবং সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা ও এনএসসির সাবেক চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
আইসিসির সঙ্গে কথা বলেই বিসিবি নিয়ে সিদ্ধান্ত, বলেছেন আমিনুল। এই দুজনের সঙ্গে কথা বলার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে এ কে এম আসাদুজ্জামান বললেন, ‘তদন্তের স্বার্থে এ ব্যাপারে এখন কিছু বলতে চাইছি না।’ তবে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, কমিটি বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামকে ইতোমধ্যে সাক্ষাৎকারের জন্য চিঠি দিয়েছে। আজকালের মধ্যেই তাঁর সাক্ষাৎকার দেওয়ার কথা। অস্ট্রেলিয়ায় ছুটি কাটিয়ে জাপানে এসিসির সভায় যোগ দিয়ে পরশু রাতে ঢাকায় ফিরেছেন বোর্ড সভাপতি। তবে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাক পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে ‘তদন্তাধীন বিষয়ে’ কিছু বলতে রাজি হয়নি আমিনুল।
বিসিবির আলোচিত নির্বাচনে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা ও এনএসসির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। অভিযোগ আছে, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কাউন্সিলর মনোনয়নে তিনি হস্তক্ষেপ করেছিলেন। তাই তদন্তে তাঁর কাছেও ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে। সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে প্রয়োজনে যে কারও সঙ্গে কথা বলার বা ব্যাখ্যা চাওয়ার এখতিয়ার এনএসসি কমিটিকে দিয়েছে।
তদন্ত কমিটি এখন পর্যন্ত কাদের সঙ্গে কথা বলছে, জানতে চাইলে কমিটির সদস্য ও ক্রীড়া সাংবাদিক এ টি এম সাইদুজ্জামান কারও নাম না উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা মূলত অভিযোগকারী, নির্বাচন কমিশন, বিসিবি ও এনএসসির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেই কথা বলছি। বিসিবির আগের নির্বাচনগুলো সম্পর্কে ধারণা পেতে এর বাইরেও কারও কারও সঙ্গে কমিটি কথা বলছে।’
সূত্র জানিয়েছে, কমিটি অভিযোগকারীদের কাছে অভিযোগের বিস্তারিত কারণ জেনেছে এবং যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। সাইদুজ্জামান বলেন, ‘ঈদের ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি বাদ দিয়ে তদন্তের জন্য এনএসসি নির্ধারিত ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬ কর্মদিবসই গেছে। তদন্ত শেষ করতে হাতে আরও ৯ কর্মদিবস আছে। আশা করি, এনএসসির বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই আমরা রিপোর্ট জমা দিতে পারব।’






